, ,

শিল্প খাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দ্বিমুখী নীতি: আসলাম চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পতন এবং আজকের বাস্তবতা

নিউজটি শেয়ার করুন

তারিকুল ইসলাম: বাংলাদেশের পোশাক খাত ও শিল্প বিপ্লবের ইতিহাসে একে আজাদ বা হামিম গ্রুপের নাম যেমন উচ্চারিত হয়, তেমনি এর সমান্তরালে বা তার চেয়েও বহুগুণ বড় শিল্প সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হেভিওয়েট শিল্পপতিরা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অতীতে যে বৈষম্য, ধ্বংসযজ্ঞ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা, তা একবিংশ শতাব্দীর মুক্তবাজার অর্থনীতি ও শিল্পায়নের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।
আসলাম চৌধুরী: একশ’র বেশি কারখানা ও লাখো শ্রমিকের সাম্রাজ্য যেভাবে ধুলিস্যাৎ করা হলো
একসময়ের দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অন্যতম ছিলেন বিএনপির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী নেতা আসলাম চৌধুরী। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এবং প্রতিহিংসার বশে তার ওপর যে স্টিম রোলার চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
বিশাল কর্মসংস্থান: আসলাম চৌধুরীর মালিকানাধীন বিভিন্ন খাতে শতাধিক গার্মেন্টস ও সহযোগী কারখানা পরিচালিত হতো, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করতেন লাখ লাখ শ্রমিক।
দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে তাকে। সহ্য করতে হয়েছে অকথ্য নির্যাতন।
সম্পদ দখল ও সিলগালা: তার গড়া শিল্প সাম্রাজ্যগুলোর উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে কারখানাগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। লাখ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজিও হুমকির মুখে পড়েছিল সেই সময়। অথচ একটি বৃহৎ শিল্প পরিবারের পতন এবং লাখো শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে তখন তথাকথিত সুশীল সমাজ বা নীতিনির্ধারকদের অনেকেই ছিলেন নীরব।
গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী: প্রতিহিংসার শিকার আরেক শিল্পপতি
একইভাবে রাজনৈতিক প্রতিশোধের বলি হয়েছিলেন আরেক শীর্ষ শিল্পপতি ও প্রভাবশালী নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার মালিকানাধীন বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা এক রাতের মধ্যে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংসের মুখে পড়ে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে এই অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস বা সদিচ্ছা অনেকেই দেখাননি।
আজকের দ্বিমুখী নীতি ও প্রশ্ন
গত দেড় দশকে যখন দেশের একেকটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপকে রাজনৈতিক কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তখন তথাকথিত নিরপেক্ষতার মুখোশ পরা অনেকেই টু শব্দটিও করেননি। কিন্তু আজ যখন নির্দিষ্ট কিছু বিতর্কিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য কোমর বেঁধে ওকালতি করা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে—এই বৈষম্যমূলক আচরণের পেছনের কারণ কী? কার স্বার্থে এই দ্বিমুখী নীতি?
সুনির্দিষ্ট দাবি
অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যে শিল্পপতি ও লাখ লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার এবং বিগত স্বৈরাচারী আমলে সংঘটিত অর্থনৈতিক অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দেশের অর্থনীতিকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হামিম গ্রুপের মতো বিতর্কিত ও বিতর্কিত কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আজ সময়ের দাবি।

তারিকুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
জনতার অধিকার পার্টি