অমিতাভ চৌধুরী, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ১০২টি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল সাহা, উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এসআই ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকদের সঙ্গে কথা হয়।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল সাহা বলেন, “কেশবপুরের ১০২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। পূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”
উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতারও উৎসব। কেশবপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসআই ইমরান হোসেন বলেন, “দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
এদিকে, উপজেলার সারুটিয়া এলাকার রাধা রাসবিহারী সার্বজনীন পূজামন্দিরে এবার ১০০টি প্রতিমার মাধ্যমে একান্নপীঠের আদলে বিশেষ আয়োজন করা হয়। মন্দিরের সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক রিপন কুমার দাস বলেন, “এবার আমাদের মন্দিরে ১০০টি প্রতিমার মাধ্যমে একান্নপীঠের আদলে বিশেষ আয়োজন করা হয়। দর্শনার্থীদের কাছে এই আয়োজন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পূজা সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
অন্যদিকে, বগা সার্বজনীন পূজামন্দিরের সভাপতি দীপংকর চৌধুরী (সঞ্জয়) বলেন, “বগা সার্বজনীন পূজামন্দিরে সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পূজা আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভক্তবৃন্দ ও এলাকাবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী দিনেও সবার মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবের সমাপ্তিতে পূজামণ্ডপের আয়োজক ও ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে কেশবপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।






