সোমা ঘোষ মণিকা: বর্তমান সরকারের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত এমপি রুমিন ফারহানা একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী আলোচিত নাম। তার ছবি এআই দিয়ে ইডিট করে অজ্ঞাত কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানুষের নৈতিকতা, সততা ও মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। পোস্টটিতে ধর্মের নামে বিদ্বেষ ও বিভাজনের সমালোচনা করে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, মানুষ হত্যা, নারীর প্রতি সহিংসতা, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, মিথ্যাচার এবং অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ-এর মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় পরিচয়কে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে সততা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার চর্চা কতটা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রুমিন ফারহানার পোস্টে নারীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো, বোনকে সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা এবং দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচারের মতো বিষয়গুলোরও সমালোচনা করা হয়েছে। ধর্মকে অন্যায় আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রবণতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য রয়েছে।
পোস্টটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে করা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। এর মাধ্যমে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাবের সমালোচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস পালন ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
পোস্টে দেবী দুর্গার প্রতিমা নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে। সেখানে দেবী দুর্গার দশভুজা রূপের কথা উল্লেখ করে আট হাতবিশিষ্ট প্রতিমার ছবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে দেবী দুর্গার দশভুজা রূপ সুপরিচিত। তবে প্রতিমার নির্দিষ্ট ছবিটির উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সেটি কী উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রচার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বাংলাদেশের বহুধর্মীয় সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই পার্থক্য যেন কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা, অপমান কিংবা বৈষম্যের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
রুমিন ফারহানার পোস্টের বক্তব্য মানুষের নৈতিকতা ও ধর্মীয় পরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। ধর্মের চর্চা যেন সততা, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়, সেই প্রত্যাশাই পোস্টটির মূল সুর। ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়েই সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে। নিচে উনার ফেইসবুক পোস্টের বক্তব্য হুবুহু তুলে ধরা হলো:
নিচের ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিভাজন আর ঘৃনা উস্কে দিতে। যারা ঘৃনার চাষকে ধর্ম ভাবেন তাদের বলছি……..
১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না
২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না
৩. শিশু ধর্ষন বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না
৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না
৫. নারীর উপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না
৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না
৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না
৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না
৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না
১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না
১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না
১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না
১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না
১৪. বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না
১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না
১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না
১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না
১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না
১৯. খাদ্যে ভেজাল এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না
২০.ব্যাভিচারে ধর্ম যায় না
২১. দুর্বলের উপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না
২২. দুষ্টের লালন পালনে ধর্ম মজবুত হয়
ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।
বি:দ্র: মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।






