“ঢাক্ বাজায় ঢাকি”
অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর,মুর্শিদাবাদ।
মনোরঞ্জন নাম ডাকে সবাই মুনা বায়েন ব’লে তারে,
জন্ম তার মুর্শিদাবাদ জেলার এক ঢাকি পরিবারে।
মুচি পাড়াটা একটু দূরে গ্রামের ঐ শেষ সীমানার বাইরে,
নীচু জাতির বাস উঁচু জাতির মড়া ফেলা ভাগাড়ে।
গাঁয়ের পূজা পার্বনে অচ্ছুৎ তারা বামুনঠাকুর দেবদেবীর ঘরে,
বামুনের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকিদের ঢাকে বাড়ি পড়ে।
চটের বস্তা পেতে খড় বিছিয়ে বসার স্থান ভর্তি অপরিষ্কারে,
সবাই দূরে থাকে নীচু জাতি ব’লে ছোঁয় না তাদের প্রসাদ দেয় ছুঁড়ে।
গ্রামে নেই পয়সা তাই ছুটে আসে শহরে,
গরীবেরা খিদের দাম কেউ পাইনা বাঁচে আশ্রয়হীন অনাদরে।
নিজের ছেলে বউ ঘরে রেখে বেশি লাভের আশায় ঘোরে,
সবার আনন্দে ওদের আনন্দ তবুও তার বাচ্চাদের কথা মনে পড়ে।
মুনার বাড়ী ফেরার আশায় ছেলে মেয়ে থাকে পথ চেয়ে,
পুজোর পরে তাদের মুখে নাড়ু মুড়কি খুশি নতুন জামাপ্যান্ট পেয়ে।
বাজি ফটকার শব্দ শোনে রাত জেগে মানুষের যাতায়াত পথ জুড়ে,
মুনার বৌয়ের ছেঁড়া শাড়ী, সন্তানের ডাবকি লাগা প্যান্টে লজ্জা ঢাকতে থাকে দূরে।
মায়ের যাওয়া আসার কাহিনী বউ ছেলে মেয়ে শোনে মুনার মুখে,
মুনা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ফিরে শহর ঘুরে ছেলে মেয়েদের কষ্টে কাটে দুখে।
ঢাক্ বাজায় ঢাকি উঠোন জুড়ে নেচে নেচে মুখে বোল তুলে,
পুরুত পোঁটলা বাঁধে ছিঁটেফোঁটা জুটে ঢাকির কপালে।
দুর্গার পাটে যতো পরনের শাড়ি সব পুরুতের ঝোলায়,
নৈবেদ্যের ফলমূল বেঁধেছেঁদে নিয়ে যায় তবুও তার অভাব না কুলায়!
আবার আসছে বছর গরীবের প্রতীক্ষায় সার,
কে দেবে দুমুঠো ভাত,কে নেবে দায়িত্ব তার?



