দাম্ভিকতা বনাম নম্রতা
—মাহাবুবুর রহমান
সকলকে হারিয়ে জেতার নাম— অহংকার,
সফলতার নাম কি তাহলে ব্যর্থতাকে জয় করার?
পরের পতনে বাড়ে যে জেদ, সে তো অন্ধকার,
সার্থকতা থাকে যে লুকিয়ে মাঝে নিজেকে গড়ার।
অহংকার খোঁজে শুধু অন্যের পরাজয়,
সফলতা খোঁজে– নিজের ভুলকে শুধরে কিভাবে নেওয়া যায়।
একটি বাড়ায় শুধু ক্ষমতার সংশয়,
অন্যটি সবক দেয়– সবাইকে কিভাবে বুকে টেনে নেওয়া যায়।
নবী মোদের মোহাম্মদ (স:) দেখালেন মহত্ত্বের পথ,
বিজয়ী হয়েও মক্কায় নত করলেন– তাঁর মুবারক মস্তক।
এত্তো নত যে, সাওয়ার ‘কাসওয়া’-এ সেই উটনীর পিঠে ছুঁয়ে ছিল তাঁর দাড়ি মুবারক।
অহংকার চূর্ণ করে দেখালেন তাওহিদেরই সোজা পথ, ক্ষমা আর ধৈর্যে লিখা সফলতার স্মারক।
গ্রিসের সক্রেটিস রফত করেছিলেন— মাথায় ঘিলু ভরা জ্ঞান,
অহংকারকে মাটি-চাপা দিয়ে করেছিলেন— জেনেও না জানার ভান।
সবজান্তা ভাব ছেড়ে হলেন মহীয়ান,
জগতবাসীকে শিখালেন— সফলতা যে নিজেকে চেনার নাম।
বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ভেবে বলছিলেন—
জ্ঞান যত কমে যায়, অহংকার বাড়ে তত,
বিনয়ী মনের কাছে ব্যর্থতা অবনত।
সৃষ্টির সহজাত নিয়মের আবেশে,
সফলতা অর্জিত হয় বিনয়ে,
কষ্টে ও আত্মনিবেশে।
লাঠি হাতে মহাত্মা গান্ধী করেছিলেন অহিংস প্রতিরোধ,
ভারতবর্ষ ছেড়ে গুটিয়ে পালালো সেই বৃটিশ,পারল না করতে ‘হরিজন’-এর গতিরোধ।
শুধু হিন্দু দলিত-অনগ্রসর সমাজই নয়,
আমরণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন— হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি থাকে যেন সদা বজায়।
এ পি জে আব্দুল কালামের জীবন সে তো এক ইতিহাস,
ব্যর্থতা পেরিয়ে যিনি ছুঁয়েছেন আকাশ।
অহংকারহীন এক ঋষির সে রূপ,
সফলতা এনে দেয় নীরব ও নিশ্চুপ।
এবার জপিবো গল্প নেলসন্ ম্যান্ডেলার,
কারাগারের অন্ধকার সয়ে সাতাশ বছর,
ম্যান্ডেলা আনলেন বিজয়ের সে ভোর।
অহংকারী শ্বেতাঙ্গ শাসকের ত্রাস,
ক্ষমা করে গড়লেন সম্প্রীতির নিবাস।
না বললেই নয়, লিখতেই হয়—
রবি ঠাকুরের নোবেল জয়,
গীতাঞ্জলি গান,
ধুলোমাটি মানুষের চরণে সে দান।
অহংকার কেড়ে নেয় ভেতরের আলো,
ধুলোর আসনে বসা সফলতা ভালো।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে শোষিতেরে দিলে প্রাণ,
সাম্যের সুরে গাইলেন নজরুল— সর্বহারার গান।
অন্যায়ের ওই শিকল টুটে জাগল যে জনতা,
তাঁর কলমে মুক্তি পেল লাঞ্ছিতের স্বাধীনতা।
ক্ষমতার দম্ভে শেখ হাসিনা ভুলেছিলেন সব,
অহংকারের জাঁতাকলে পিষ্ট হলো রাজপথ।
জনতার ক্ষোভ যখন হলো কলরব,
নিমেষেই ভেঙে গেল সে দাম্ভিক রথ।
অহংকার ও ক্ষমতার অতি-ব্যবহার এর ফল যে করুণ ,
গণমানুষের অধিকারকে অবজ্ঞা করলে অবশ্যম্ভাবী হয়ে যায়— তার অধঃপতন ।
কারাগার, ভাঙা স্বাস্থ্য, শত অবিচার সইতে হয়েছে নেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার,
ধৈর্যের চাদরে যিনি শুয়েছিলেন কত শত রাত।
নিন্দুকের মুখে ছাই, কেটে অন্ধকার,
জনতার ভালোবাসে পেলেন সুপ্রভাত।
চলে গেলেন না ফেরার দেশে, শায়িত আছেন আরেক রাখাল রাজার পাশে।
হে মহান খোদা, যুগলের আত্মা যেন দোলে বেহেশতি তাঞ্জামে।
তাই তো মনীষীগণ গেয়ে গেছেন গান,
অহংকার নিয়ে আসে পতনেরই তান।
নিজেরে বিলিয়ে দিয়ে মানুষের তরে,
প্রকৃত সফল ব্যক্তি বেঁচে থাকে ঘরে ঘরে।




