, ,

কবিতা/’রাড্ডা’/ মাহাবুবুর রহমান

নিউজটি শেয়ার করুন

‘রাড্ডা’

দলকুলের পীড়নে ছিলাম আমিও পীড়িত,
দহিত হৃদয় মোর সদা আজাদের ধ্বনি জপিত।

রাড্ডা, সেবাদানে তুমি মোর অগ্রজ,
ছোট্ট মোর ব্যবসাখানি তোমারই অনুজ।
হরহামেসা লুটতরাজ, উঁকি মারে চাঁদাবাজ,
বাঁধিয়া ঘাড়ে দলান্তর, গলার্ধে বড় অজ,
হজম করিতে বাকি মোর ভাগ্যের এই কারসাজ!

রাড্ডা, সেবা প্রদানে তুমি মোর অগ্রজ,
তোমার সেবায় বাঁচিয়া আছে যত শিশু,
সেই শিশুটি আজ প্রৌঢ়, তেমনি ছুঁইয়াছে তোমাকে প্রৌঢ়ত্ব।
নেমকহারাম, আগ্রাসীরা ধ্বংস করিয়াছে ধ্বংসস্তূপের মতো,
গুঁড়িয়া দিয়াছে অবকাঠামো, ছিঃ ছিঃ! তাও কিনা তিমির রাতে চোরের মতো,
একদল ডাকাত দশ লক্ষাধিক টাকা লুটিয়া নিলো!
রাখিয়া গেলো শুধু প্রসূতি মা ও শিশুর ভ্যাকসিন, ওষুধপথ্য।

রাড্ডা, তোমার সেবার পরিধি বড়ো, বিশাল সীমানা আসমানের মতো,
আমি ছোট, ক্ষুদ্র চুনোপুঁটি, বাহুবলে ভীত, সদা সন্ত্রস্ত।
সংশয়—খোয়া গেলে মোর ক্ষুদ্র ব্যবসাখানি, চলিবো কী করিয়া, বাঁচিবো কী ধরিয়া?
কোন্ লাঠি ভরে মাতৃভূমিতে কাটিবে মোর বাকি জীবনখানি!
আমারই মতো ছোট ছোট উৎপীড়িতের কান্না দানা বাঁধিয়া থাকিবে কি আজীবন?
নাকি হইবো মোরা আগ্নেয়গিরি বা দাবানল?

রাড্ডা, সেবা প্রদান তুমি মোর বড়ো, তুমি মোর অগ্রজ।
নাহি নত শির, বাঁচিয়া থাকিবে চিরদিন,
তোমারই আলোয় কাটিয়া যাক যত তামস-তিমির বিলীন।
রাখে আল্লাহ, মারে কে?
তোমারে গুঁড়িয়া দিয়াছে আজ,
তুমি ভাঙিয়া না পড়িয়া, মাথায় পরিলে তাজ।
সেবা প্রদানে তুমি অগ্রজ, তুমি মোদের পাথেয়।