, ,

রম্যরচনা

নিউজটি শেয়ার করুন

“ভোম্বলের বাংলা যোগ”
রম্যরচনা
অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।

ভোম্বলের বউ শিউলি সোহাগের সুরে ডাকলো, কই গো তুমি? নদী থেকে বোধনের ঘট ভরে নিয়ে এসো! লগ্ন বয়ে যায়।আমি আল্পনা দিয়ে পাটের বোঁড়ে ঠিক করে রাখছি, তুমি এসে ঘটটি বসিয়ে দেবে। ধান দূর্বা বোঁড়ের তলে দেওয়া থাকবে। রাস্তায় ঘট ভ’রে কারো সঙ্গে কথা বলবে না বেশ।
ভোম্বল বললো আমি নিজের মনে কথা বলবো কারো সঙ্গ দরকার নেই। দাঁড়াও নিজের ঘটটি ভ’রে নিই, তারপর যাচ্ছি।
শিউলি – ছিঃ ছিঃ উপোস করে ঘট ভরতে হয়?
ভোম্বল – আমি চাট ছাড়াই পান করি। আমার বদাভ্যাস নাই। জল, চায়ে দোষ নাই। তাছাড়া বাংলার বায়ু, বাংলার জল, বাংলার ফল নিয়ে কবি গান লিখেছেন তাইতো আমি বাংলা ছাড়া বিলাতি পান করি না।
ভোম্বল ঘট আমের পাতা সহযোগে ভাগীরথীর জলে নেমে যেমন মেরেছে ডুব,আর পায়ের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক ছেদ ভেসে চলেছে অনেকদূর। ঘাটে চিৎকার চেঁচামেচিতে নৌকার মাঝি তার কাপড়ের খুঁট ধ’রে টেনে নৌকায় তুলে পাড়ে দিয়ে গেলো। তবুও ভালো কাপড়ের সঙ্গে দেহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি? ভোম্বলের সম্বিত ফিরে এলো কিন্তু ভাব টলোমলো। ঘট ভ’রে নদীর পাড়ে আমগাছের শাখা পেরে নিয়ে বাড়ীর মুখো হলো।
শিউলি অপেক্ষায় আছে। শাঁখ বাজিয়ে ঘটের আবাহন বার্তা জানান দিচ্ছে।
ভোম্বল – শাঁখ বন্ধ করো। আজ খোল করতাল বাজিয়ে কীর্তন শুরু হতো এতোক্ষণ। ভাগ্যিস মা গঙ্গা ফিরিয়ে দিয়েছে। চিত্র গুপ্তের খাতায় নাম এখনো উঠেনি তাই তোমার কাছে ফেরত এলাম।
শিউলি তোমারও মরণ নাই,রাতে ফোটো আবার সকালে ঝরে পড়ো, আবার রাতে ফোটো, আমিও তাই ডুবে ভেসে উঠি। আমি অমর। আমাদের জুটিও তাই। বাংলায় থাকবো, বাংলায় কথা বলবো আবার বাংলা পানে গান গাইবো এটাই নিয়ম বিধান। পড়ে গেছিলাম একটু গা টিপে দেবে? যন্ত্রনা হচ্ছে।
শিউলি – তোমার গলা টিপে দেওয়াই উচিত। আমার মান সম্মান সব ধূলায় মিশিয়ে দিলে। বাংলা খেয়ে বাংলার রাস্তায় আছাড় খেলে?.
ভোম্বল – আমি অনেক গলাধাক্কা খেয়েছি,অপমান সহ্য করেছি কিন্তু আজ ঘট ভরতে কথা বন্ধ তাই সহ্য করতে হলো। হে ভগবতী দুচোখে দেখছি তোমার রূপ। এসো বাংলায় বার বার,ঘট ভরার দায়িত্ব পালন আমার।