কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় সাধারণত মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ, রপ্তানি কিংবা বাজেট ঘাটতির মতো বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু এসব আলোচনার বাইরে থেকেও কিছু উদ্যোক্তা আছেন, যারা অর্থনীতিকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে দেখেন না; বরং উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের সমন্বিত একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করেন। কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদেরই একজন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, এগ্রোকেমিক্যাল, শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি যে উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক বিশ্বাস—কৃষিকে শক্তিশালী না করে কোনো দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যে একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে। তিনি মনে করেন, কৃষিকে শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের খাত হিসেবে দেখার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে কৃষি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গবেষণা, প্রযুক্তি, শিল্প, বিপণন, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান। কৃষক মাঠে ফসল উৎপাদন করেন, কিন্তু সেই ফসলকে অধিক মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে শিল্পপণ্যে রূপান্তরিত করাই একটি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো কৃষি ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগের অভাব। কৃষি উৎপাদন বাড়লেও সেই উৎপাদনকে শিল্পের কাঁচামালে পরিণত করার সক্ষমতা এখনো সীমিত। ফলে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়লেও জাতীয় অর্থনীতিতে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে না। তিনি মনে করেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণই হতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি।
কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান শুধু কৃষির কথাই বলেন না; তিনি কৃষির সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ককেও সমান গুরুত্ব দেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতকে একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যদি মাঠে না পৌঁছায়, আর শিল্প যদি সেই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে গবেষণার সুফল দেশের অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে না। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাকে আরও বাস্তবমুখী ও শিল্প-সংযুক্ত করার সময় এসেছে।
একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি উৎপাদনকে অর্থনীতির প্রাণশক্তি বলে মনে করেন। তাঁর মতে, একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয়। আর সম্পদ সৃষ্টি হয় শিল্পায়ন, উৎপাদন এবং রপ্তানির মাধ্যমে। শুধু আমদানিনির্ভর অর্থনীতি বা ভোগনির্ভর বাজার দীর্ঘমেয়াদে কোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে পারে না। সে কারণেই তিনি বারবার উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক নীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
দেশের বাজেট নিয়েও তাঁর বিশ্লেষণ ভিন্নধর্মী। তিনি মনে করেন, বাজেটের আকার বড় হওয়াই সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বাজেট কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাষ্ট্র যদি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলে, তাহলে সেই বিনিয়োগই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, বাজেটের প্রতিটি টাকার লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
বাংলাদেশের এগ্রোকেমিক্যাল শিল্প নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর বিশ্বাস, কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যত বেশি দেশে উৎপাদিত হবে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় তত কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। এ কারণে তিনি দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, কাঁচামাল আমদানি করে দেশে উৎপাদন বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনই হতে পারে এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন রপ্তানি বৈচিত্র্যের বিষয়টি। তাঁর মতে, একটি বা দুটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কোনো দেশের জন্য নিরাপদ নয়। তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রাসায়নিক শিল্প এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এতে বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তাঁর চিন্তায় বেসরকারি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয়, সহযোগিতার হওয়া উচিত। বিনিয়োগের নিরাপত্তা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আরও বড় বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে।
দুর্নীতিকে তিনি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, দুর্নীতির কারণে শুধু রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হয় না; বিনিয়োগের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, প্রতিযোগিতা কমে এবং সৎ উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। ফলে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। তাই অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেও তিনি সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কর্মসংস্থান নিয়ে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলেও শিল্পখাত সেই হারে সম্প্রসারিত না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। তাঁর মতে, নতুন শিল্প, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিক্ষিত তরুণেরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস পান।
কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর। তিনি মনে করেন, অর্থনীতির রূপান্তর রাতারাতি হয় না। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক নীতি, গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ। কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি ও শিক্ষা—এই চারটি স্তম্ভকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে তাঁর ভাবনা মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়ানো। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি বাজারের সীমাবদ্ধতা দেখেছেন, আবার সম্ভাবনাও দেখেছেন। তাই তাঁর বক্তব্যে সমালোচনার পাশাপাশি থাকে সমাধানের প্রস্তাব। কৃষিকে আধুনিক করা, শিল্পের বৈচিত্র্য বাড়ানো, গবেষণাকে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা—এই কয়েকটি বিষয়কেই তিনি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেন।
অর্থনীতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে বিচার করা যায় না। সেই উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন কৃষক উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পান, শিল্প নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, গবেষণা নতুন প্রযুক্তির জন্ম দেয় এবং সেই প্রযুক্তি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্বাস করেন, এই সমন্বিত পথেই বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তি অর্জন করতে পারে।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বিশেষ গুরুত্ব দেন উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়নের ওপর। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং প্রযুক্তি, মান এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাই একটি দেশের অবস্থান নির্ধারণ করে। ফলে শিল্প খাতকে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে তাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। কৃষি, ওষুধ, রাসায়নিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই দেশীয় গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের কৃষি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য যথেষ্ট নয়। এখন প্রয়োজন উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং কৃষিপণ্যকে বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে তোলা। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দেশের কৃষিপণ্য বিশ্ববাজারে আরও বড় পরিসরে স্থান করে নিতে পারবে। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথও তৈরি হবে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। রাজধানীকেন্দ্রিক শিল্পায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সম্ভাবনার ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের চাপ কমবে এবং দেশের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কৃষিপ্রধান এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং কাঁচামালনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের দৃষ্টিতে দক্ষ মানবসম্পদই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, দক্ষ জনশক্তি ছাড়া সেই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে পারলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও তাঁর অর্থনৈতিক ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মনে করেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে একই কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করতে হবে।
সবশেষে কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো—তিনি অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন কিছু খাতের সমষ্টি হিসেবে দেখেন না। তাঁর দৃষ্টিতে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং সুশাসন একটি অভিন্ন উন্নয়নচক্রের অংশ। এই চক্রের কোনো একটি অংশ দুর্বল হলে সামগ্রিক অর্থনীতিও কাঙ্ক্ষিত গতি পায় না। তাই উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি অর্জন করতে পারে—এটাই তাঁর বিশ্বাস।
রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব







