, ,

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ‘আওয়ামী সিন্ডিকেটের’ পুনর্বাসন: গোপনে প্রজ্ঞাপন জারি, কোণঠাসা দক্ষ কর্মকর্তারা

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: ​পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও মোটেই বদলায়নি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চিত্র। পটপরিবর্তনের পর সংস্কার ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরানোর তাগিদ থাকলেও উল্টো সেখানে ফিরে এসেছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ও প্রভাবশালী ‘চাটুকার বলয়’। গুরুত্বপূর্ণ শাখা-অধিশাখাগুলো গোপনে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট। অন্যদিকে বিগত দিনে বঞ্চিত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের কৌশল করে কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
​এমনকি বিতর্কিতদের বদলির সরকারি আদেশ জারি হলেও প্রভাবশালীদের বলয়ে তা ‘কাগজে-কলমে’ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় জারি করা একটি গোপনীয় বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন ঘিরে মন্ত্রণালয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​গোপন প্রজ্ঞাপন ও সিন্ডিকেটের নেপথ্যে যারা
​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন যুগ্মসচিব (প্রশাসন) এবং সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর জামাতা জিল্লুর রহমানের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) মোঃ কামরুজ্জামান সোহাগকে মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত চাবিকাঠি হিসেবে পরিচিত ‘প্রশাসন-২’ শাখায় পদায়ন করা হয়। সেসময় আওয়ামী লীগপন্থী বহু এও ও পিও-কে (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) প্রভাবশালী শাখাগুলোতে বসিয়ে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।
​বর্তমান পটপরিবর্তনের পরও সেই পুরনো সিন্ডিকেট নতুন রূপে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), যুগ্ম সচিব (পার) এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান সোহাগের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সুবিধাপ্রাপ্ত এও ও পিও-দের আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনঃপদায়ন করা হচ্ছে।
​সবশেষ গত ৬ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ সন্ধ্যায় অত্যন্ত গোপনে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কর্মকর্তাদের প্রশাসন ও নীতি-নির্ধারণী কার্যক্রমে বসানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী বা নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নামমাত্র বা কম গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন করে কার্যত অকার্যকর করে রাখার অভিযোগ উঠে এসেছে।
​কার্যকর হচ্ছে না বদলির আদেশ, কোণঠাসা যোগ্যরা
​মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিষয়ে বদলির আদেশ হলেও তা রহস্যজনক কারণে থমকে আছে। দুইজন বিতর্কিত ব্যক্তিগত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে সেই আদেশ আজও কার্যকর হয়নি।
​অন্যদিকে, বিগত দিনে পদোন্নতি ও পদায়নে বঞ্চিত হওয়া দক্ষ কর্মকর্তাদের কৌশলে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পার-১, প্রশাসন-১ এবং প্রশাসন-২ শাখার বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
​বৈষম্য ও বিক্ষোভের মুখে মন্ত্রণালয়
​নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “বিগত আমলের সুবিধাভোগীরা রূপ বদলে ফের সংগঠিত হয়ে পুরো মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, পদোন্নতি কিংবা দক্ষতার কোনো বিচার করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত আনুগত্য দেখে গোপনে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এতে কাজের সুষম পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য ভেস্তে যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
​এ বিষয়ে বিতর্কিতদের বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন, ৬ অক্টোবরের বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার এবং পুরো পদায়ন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
​তবে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও গোপন প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে সম্মত হননি।
​বিকল্প আকর্ষণীয় শিরোনাম (পত্রিকার প্রথম পাতার জন্য):
​১. স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ‘আওয়ামী সিন্ডিকেটের’ পুনর্বাসন: কোণঠাসা দক্ষ কর্মকর্তারা (মূল প্রতিবেদনে ব্যবহৃত)
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পুরনোদেরই রাজত্ব: আদেশের পরও কার্যকর হয়নি বিতর্কিতদের বদলি
৩. স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ফের সক্রিয় চাটুকার বলয়: গুরুত্বপূর্ণ পদে আওয়ামী সুবিধাবাদীরা
৪. সন্ধ্যায় গোপন প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে তোলপাড়: নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট