, ,

লঞ্চ থেকে আটক স্বামী।। চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে নেমে বেরিয়ে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে স্বামী মোঃ জিহাদ মিয়া।

বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্ত্রীর নাম রুনা বেগম। ঘটনার পর লালমোহন থানার পুলিশ ও ভোলা র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ভোর রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোলা ইলিশা ঘাটে লঞ্চ থেকে আটক করা হয় স্বামী মোঃ জিহাদ কে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, লালমোহন পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গণেশপুর গ্রামের বাসু মুন্সির বাড়ির মোঃ হাফিজুর রহমানের মেয়ে রুনার প্রায় সাত মাস আগে মামাতো ভাই জিহাদের সাথে পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিয়ে হয়। জিহাদ পার্শবর্তী ৪নং ওয়ার্ডের পাঙ্গাশিয়া গ্রামে মোঃ রফিক মিয়ার ছেলে। বিয়ের পর রুনা বেগম কে তুলে নেয়নি জিহাদ।

যার কারণে সে পিতার বাড়িতে থাকতো। জিহাদ চট্টগ্রামে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করে। তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলে আসছিলো বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানায়।দাম্পত্য কলহের জের ধরে রুনা তার বাবার বাড়িতেই থাকে। বুধবার রুনার মা রেহানা বেগম তার ছোট মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি (মোঃ জিহাদের বাড়ী) তে যায়।

বাবা গজারিয়া বাজারে পানের দোকান করে সেজন্য সে দোকানে গিয়েছিল এই সুযোগে বিকেলে জিহাদ তাদের বাড়ীতে
অবস্থান করা রুনার মাকে চট্টগ্রাম যাবে বলে ঘর থেকে বের হয়ে বিকেল ৪টার দিকে বাবার বাড়িতে অবস্থান করা রুনার কাছে যায়।

সেখানে কথাকাটাকাটির এবং ঝগড়া সৃষ্টির এক পর্যায়ে রুনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় মোঃ জিহাদ

সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাশের ঘরে থাকা রুনার চাচী নুরজাহান বেগম ওই ঘরে গিয়ে দেখেন রুনা ল্যাপ খাতা কম্বলের নিচে পড়ে আছে এবং তার বুকের ওপর বালিশ রাখা এবং মুখ থেকে লালসা বের হয় ।

তিনি ডাক চিৎকার করলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এসে রুনার বাবাকে খবর দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ধারণা, মোঃ জিহাদ তার স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। রুনাকে মৃত পাওয়ার পর জিহাদ কে ফোন করলে সে অসংলগ্ন কথা বলে। এতে সবাই তাকে সন্দেহ করে। খবর পেয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজর দাড়িতে আছে।

 

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযানে ভোলা ইলিশ ঘাট থেকে ভোর রাতে চট্টগ্রাম পালিয়ে যাওয়ার সময় জিহাদকে আটক করা হয়। হত্যার ঘটনায় নিহত রুনার বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।