, ,

রূপালি ধুলোয় তোমার ছায়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আজও সন্ধ্যার পথে হাঁটতে গিয়ে
একটা মেঘ হঠাৎ থেমে গেল মাথার ওপরে—
তুমি কি ওখানে?
তোমার চোখের মতোই যেন নরম সেই ছায়া,
আলো ফুরোলেই যে ছুঁয়ে যায় কপালের একফোঁটা অশ্রু।
ভেবেছিলাম, এবার আর দেখবো না ফিরে,
কিন্তু বাতাসের বুকের ভেতর তুমি আজও দুলে ওঠো
শেফালির গন্ধে ভেজা পাতা হয়ে—
তোমার নাম উচ্চারণ করলেই
সমুদ্রের ঢেউ থেমে যায়,
অবুঝ নদীও এক মুহূর্তে থমকে শোনে।
আজ সারাদিন আমি খুঁজেছি
তোমার পদচিহ্নের চাঁদের ধুলো,
রাস্তার ধারে শুকনো পুকুরের জলে
তোমার হাসির ছায়া নড়েচড়ে ওঠে
যেন হারানো আকাশের ছেঁড়া কাব্যপঙ্‌ক্তি।
আমার চারপাশে এখন
ঝরা রঙের হেমন্ত,
মাঠের ঘাসে নিঃস্ব আত্মার দীর্ঘশ্বাস,
আমি শুনি— কোনো পুরনো সুরের গোপন দহন
যেন দিগন্তে জ্বলে থাকা আগুনপোকার মিছিল।
তুমি ফিরে এলে না, তবু
তোমার অনুপস্থিতিতেই পূর্ণ হয় আমার দিন,
তোমার না বলা কথাতেই জন্ম নেয় কবিতা,
তোমার নীরবতায়ই জেগে ওঠে অস্তিত্বের সুর।
এভাবে প্রতিটি সন্ধ্যায়
ধীরে ধীরে মিশে যাই তোমার না-থাকার মধ্যেই,
এমন এক নিস্তব্ধতায়
যেখানে সময়ও সাহস পায় না নড়তে—
আমি,
একটি পাহাড়ের মতো স্থির দাঁড়িয়ে আছি
তোমার অদৃশ্য রূপের নিচে,
যেখানে ভালোবাসা নিজেই হয়ে গেছে অমর প্রতিধ্বনি।