ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদী ইটাখলা নামক স্থান থেকে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা গ্রহণে অনীহা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখলা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার থেকে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা নাহিদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে গাড়ির ভেতর মারধর করে এবং তার কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন (এর মধ্যে একটি আইফোন), একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। এরপর তাকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর থানা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাহিদ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার শরীরজুড়ে ব্যাথা রয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন। এ ঘটনায় ২৪ জুলাই ভুক্তভোগীর পরিবার শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল)-এর অনুমতি ছাড়া মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে থানা পুলিশ। পরে তাদের বুঝিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়, যার নম্বর ১১৮৬, তারিখ ২৪-০৭-২০২৬। এ বিষয়ে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কহিনুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) মো. রায়হান সরকার অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।







