।। খান আখতার হোসেন ।।
ঢাকায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২০০তম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারিতাস মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিশিল্পী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। সম্মেলনে দুই শতাধিক কবির উপস্থিতিতে কবিতা, সাহিত্যচর্চা, সংস্কৃতি ও সমকালীন নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও গাঙচিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন সংগঠনটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান মেজর পলক রহমান।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গাঙচিলের কেন্দ্রীয় কো-চেয়ারম্যান এ টি এম ফারুক। গীতা পাঠ করেন গাঙচিল গাজীপুরের সদস্য এডি দিলীপ। পরে গাঙচিল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠানমালা।
উদ্বোধনী পর্বে কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলাদেশের বাচিকশিল্পী পারভীন আহমেদ এবং ভারতের শিলিগুড়ি গাঙচিলের সভাপতি কবি পারুল কর্মকার। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন গাঙচিলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন।
সম্মেলনে কবিতার ব্যঞ্জনা ও বিমূর্ততা বিষয়ে আলোচনা এবং সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গাঙচিলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন ড. ইদ্রিস আলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান। বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, গাঙচিল সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও কথাশিল্পী মঈনুদ্দিন কাজল।
সাহিত্যবিষয়ক আলোচনায় কবিতার নির্মাণশৈলী ও কলাকৌশল নিয়ে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গাঙচিলের উপদেষ্টা আবু সুফিয়ান খান। সাহিত্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজিপি ও গাঙচিলের উপদেষ্টা সরদার তমিজ উদ্দিন। সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন পানি বিশেষজ্ঞ ও গাঙচিলের কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা কবি ইমরোজ সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ও সাহিত্যবিশারদ এবং ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল ফখরুদ্দিন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ গাঙচিলের সভাপতি মোজাইক জহির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গাঙচিলের স্থায়ী সদস্য মো. জালাল উদ্দীন নলুয়া, ফরিদপুরের আঞ্চলিক সমন্বয়ক বন্ধু রিয়াদ, তেরোখাদা গাঙচিলের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল সেখ, বাগেরহাট গাঙচিলের সদস্যসচিব সৈয়দা তৈফুন নাহার, জাগ্রত সাহিত্য পরিষদের চেয়ারম্যান মহানায়ক রিফাত আলম, কবি ও বাচিকশিল্পী এবং গাঙচিলের যুগ্ম মহাসচিব লিজি রহমান এবং গাঙচিল উত্তরা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল হক।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সভাপতিত্ব করেন গাঙচিলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান মেজর পলক রহমান, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গাঙচিলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান মনজু খন্দকার এবং কারিতাসের পরিচালক ও গাঙচিল ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি কবি থিওফিল নকরেক।
মেজর পলক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় অংশ নেন ডিআইজি অব পুলিশ (অব.) ও গাঙচিল উত্তরা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কো-চেয়ারম্যান এ টি এম ফারুক আহমেদ, বাচিকশিল্পী ও গাঙচিল লেখিকা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাবানা ইসলাম বন্যা এবং গাঙচিল উত্তরা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম বিশ্বাস।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে জাদু প্রদর্শন করেন গাঙচিল ভোলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
আয়োজকদের মতে, গাঙচিলের ৫১ বছরের পথচলা এবং ২০০তম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন সংগঠনটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কবি-সাহিত্যিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ, নতুন সাহিত্যচিন্তার বিনিময় এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের বক্তব্য ও সৃজনশীল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনের নানা দিক তুলে ধরেন।







