, ,

নয়াদিল্লির আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে চৌদ্দগ্রামের প্রবাসী সোহাগের মৃত্যু, আহত স্বজনসহ ৪

নিউজটি শেয়ার করুন

মু. আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট বোন, ভগ্নিপতি, চাচাতো বোন ও বোনের মেয়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মো. নূরুল আমিন সোহাগ (৩৮) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস সোবহানের জ্যেষ্ঠ ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভগ্নিপতির কিডনি চিকিৎসার জন্য স্বজনদের সঙ্গে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) সকালে নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে’ (Flourish Stay), যা ‘মিকাসা ইন’ নামেও পরিচিত, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।

অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহাগ, তাঁর ছোট বোন, ভগ্নিপতি, চাচাতো বোন ও বোনের মেয়েকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মারা যান। আহত অন্যরা বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহতের ভগ্নিপতি ধোড়করা বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বলেন, “চিকিৎসার প্রয়োজনেই তারা ভারতে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নয়াদিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ বা সিলিন্ডার–সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হোটেলটির অগ্নি-নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত সোহাগের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।