, ,

জামপুর মাঝেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত করতে মায়েদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে: আল মুজাহিদ মল্লিক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ১৬ নং মাঝেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন এবং মাদক ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাকির হোসেন বাবু। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, মানবতার ফেরিওয়ালা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ১নং সহসভাপতি এবং আসন্ন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আল মুজাহিদ মল্লিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাবা খন্দকার শিল্পী আলম এবং জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক। ওয়াসিম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পেছনে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে শুধু বিদ্যালয়ে পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং তার পড়াশোনা, আচার-আচরণ, চলাফেরা এবং বন্ধু-বান্ধবের বিষয়ে মায়েদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। সন্তান ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে কি না এবং অবসর সময়ে কী করছে, সেসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “একটি শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার এবং বিদ্যালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে একজন মায়ের সচেতনতা ও আন্তরিকতা সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে এবং ছোটবেলা থেকেই ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে।”
বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তিকে সমাজের অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা উল্লেখ করে আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, কিশোর বয়সেই অনেক শিশু ও তরুণ মাদকের মতো ভয়ংকর নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে হলে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন—এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কাজে উৎসাহিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অল্প বয়সে স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুদের পড়াশোনা, মনোযোগ ও স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ইন্টারমিডিয়েট বা উচ্চমাধ্যমিক পাস করার আগে সন্তানদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো সম্পর্কে সন্তানদের ধারণা দিতে হবে, তবে বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনায় এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের এমন অর্জন অন্যদেরও ভালো ফলাফল ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সালু, বিএনপি নেতা রমজান মিয়া, ছাত্রদল নেতা সালমান, যুবদল নেতা হাজিবুর, মনির, মতলবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মা সমাবেশের মাধ্যমে সন্তানদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় পরিবার ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।