নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতি, কূটনীতি আর ক্ষমতার মারপ্যাঁচে অনেক সম্পর্কই কেবল আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে আটকে থাকে। কিন্তু এর বাইরেও কিছু সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা সময় ও সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে এক অনন্য পারিবারিক ও আত্মিক বন্ধনে রূপ নেয়। এমনই এক বিরল ও অনুপ্রেরণামূলক সম্পর্কের গল্প লুকিয়ে আছে দেশের একজন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যাবসায়ী সি আই পি কে. এম. মজিবুল হক এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট মহামান্য তারো আসোর দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের পথচলায়।
সাড়ে চার দশকের সুদীর্ঘ মেলবন্ধন:
সম্পর্কটা আজ বা কালকের নয়, প্রায় ৪৫ বছরের। দীর্ঘ এই যাত্রায় রাজনীতির বহু চড়াই-উতরাই দেখেছেন তারো আসো। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সামলেছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বিশ্বমঞ্চে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তারো আসোর সুপরিচিতি থাকলেও, পর্দার অন্তরালে তাঁর একটি অন্য রূপ রয়েছে—যিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং স্নেহের বন্ধনকে আজীবন মূল্যায়ন করে এসেছেন। কে. এম. মজিবুল হকের সঙ্গে তাঁর এই দীর্ঘদিনের পথচলা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং গভীর বোঝাপড়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মেন্টর, পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস:
কে এম মজিবুল হকের ছেলে কে এম মোফাক্কার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগগন স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন,
কে. এম. মজিবুল হকের পরিবারের কাছে তারো আসো কেবল একজন বিদেশি উচ্চপদস্থ নেতা নন; তিনি তাঁর বাবার একজন সরাসরি মেন্টর, পথপ্রদর্শক এবং আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস। মুফাক্কার হকের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বাবার মুখে তারো আসোর অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, গতিশীলতা এবং অনন্য ব্যক্তিত্বের গল্প শুনে।
এ বিষয়ে তিনি আর-ও বলেন, *”ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে তাঁর কর্মদক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের অসংখ্য গল্প শুনে বড় হয়েছি। বাবা তাঁর কাছ থেকে জীবনের নানা ধাপে অনেক কিছু শিখেছেন। আজও গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেন।”*
একজন আদর্শ নেতা ও সফল ব্যাক্তির সাহচর্যে থেকে কীভাবে জীবনকে পরিপক্ব করতে হয় এবং নীতি-আদর্শের ওপর অটল থাকতে হয়, তার এক জীবন্ত পাঠ হয়ে আছে এই সম্পর্ক।
শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের অনন্য বন্ধন:
কূটনৈতিক শিষ্টাচার বা পেশাদার পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে তারো আসো ও মজিবুল হকের পরিবারের এই সম্পর্ক এক পারিবারিক সৌহার্দ্যে রূপ নিয়েছে। শিক্ষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বন্ধন প্রমাণ করে যে, দূরত্ব বা সংস্কৃতির ভিন্নতা হৃদয়ের টানকে আটকাতে পারে না। সততা, নেতৃত্ব এবং মানবিক গুণাবলীর যে শিক্ষা তারো আসোর কাছ থেকে মজিবুল হকের পরিবার লাভ করেছে, তা কেবল ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বরং তাদের চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে এক আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করেছে।
এক অনুপম দৃষ্টান্ত:
আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বে যেখানে স্বার্থের সম্পর্কই বেশি দৃশ্যমান, সেখানে সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসের সম্পর্ক এক বিরল নজির। কে. এম. মজিবুল হকের পরিবার ও মহামান্য তারো আসোর এই দীর্ঘ পথচলা আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এবং মানুষের আত্মিক মেলবন্ধনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে থাকবে।






