, ,

টমেটা আমদানীতে একদিনে রাজস্ব আহরণ ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

ফলোআপ নিউজ

শেখ ফরিদ উদ্দিন।। টমেটো আমদানির ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) স্থগিতের ১২ দিন পর আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।এবার আইপি প্রদানের পর ২৪ ঘন্টায় ( সোমবার রাত থেকে মন্গলবার রাত পর্যন্ত) ২৭ কোটি পয়ষট্টি লাখ টাকা সরকার রাজস্ব আহরণ করেছে বলে জানাযায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানি কারকদের সূত্রে জানাযায়, আইপি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিগাড়ী ৩০ টন করে ২২ গাড়ি এবং বেনাপোল দিয়ে ২ গাড়ি মোট ২৪ গাড়ি টমেটো ভারত থেকে বৈধভাবে প্রবেশ করে। এতে প্রতি কেজি ৩৮. ৪০ টাকা হারে মোাট ৭২০০০০(সাত লাখ বিশ হাজার)কেজি টমেটো আমদানীতে ২৭ কোটি পয়ষট্রি লাখ টাকা সরকার রাজস্ব আহরণ করে । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক ( আমদানী) শওকত ওসমান মজুমদার প্রতিবেদককে জানান, আপাতত আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ অনুমতি বহাল থাকবে। এতে বাজারে টমেটোর সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দাম নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ চোরাচালান কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে টমেটো আমদানির আইপি স্থগিত করা হয়। এতে দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ পথে আমদানি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে টমেটো আসতে থাকে। ফলে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে, অন্যদিকে বাড়তি দামে টমেটো কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি বন্ধের আগে বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। পরে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে দ্বিগুন বলে দাবি তাদের।

সবজি আমদানিকারক ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আরাফাত তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অন্তত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টমেটো আমদানির আইপি দেওয়া উচিত। এতে দেশে উৎপাদিত টমেটো বাজারে আসার আগপর্যন্ত এ খাতের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে।

তিনি জানান, ডিসেম্বর থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের উৎপাদিত টমেটো দিয়েই সাধারণত অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হয়। তবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাস প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করে বাড়তি চাহিদা মেটাতে হয়।

শওকত ওসমান মজুমদার আরও জানান, আগাম টমেটো উৎপাদনকারী কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমদানির আইপি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আপাতত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ অনুমতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা চলতি অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে টমেটো আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, বৈধ পথে আমদানি চালু থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে, দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে টমেটো প্রবেশের প্রবণতা কমবে।

এদিকে, আমদানি শুরুর পর বাজারে কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায় করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। আমদানি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর বৈধভাবে আমদানি হলেও আজকেও সিলেট অন্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বেশকিছু গাড়ি অবৈধভাবে প্রবেশ করার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার হচ্ছে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত। আবার বৈধ আমদানি কারকরা অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের চোরা চালান বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান কারওয়ান বাজারের একাধিক সবজি আমদানী কারক। প্রতি বছরের মত এবারও দেশে উৎপাদিত নতুন টমেটো বাজারে আসার আগে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত আইপি বহাল রাখার জন্যও সরকারের কাছে জোর দাবী জানান তারা।