প্রেস বিজ্ঞপ্তি: হাওড় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের ফসল বিনষ্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান, ধানের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তির নামে কৃষি ও কৃষক ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দেওয়ার দাবিতে আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় ৩০ তোপখানা রোড থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা মাহমুদুল হাসান মানিক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপংকর সাহা দীপু।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু এবং জাতীয় কৃষক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তফা আলমগীর রতন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা হবিবর রহমান, তারভির রুসমত, সাইদুর রহমান, রাজিয়া সুলতানা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহানা ফেরদৌসি লাকী, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলোসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ফসলহানির শিকার হয়েছেন। অথচ সরকার এখনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে কৃষক পরিবারগুলো চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা অবিলম্বে প্রদান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ধান কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ধানের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে বিদ্যমান অসম বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ ধরনের চুক্তি দেশের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং দেশীয় উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলবে।
মানববন্ধন থেকে নেতৃবৃন্দ কৃষকদের স্বার্থে উত্থাপিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় জাতীয় কৃষক সমিতি সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।







