, ,

যশোরে লুজ মবিল প্যাকেটজাতের অভিযোগ, অনুমোদন ও মান নিয়ে প্রশ্ন

নিউজটি শেয়ার করুন

মো: আসিফ আকবর সেতু, বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা বিভাগ: যশোরের বিভিন্ন এলাকায় খোলা বা লুজ মবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন নামে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট পরিসরে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম গড়ে উঠছে। এতে পণ্যের মান, অনুমোদন এবং পরিবেশ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বাজার থেকে লুজ মবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন নামে বা বেনামে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পণ্যের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা বলেন, খোলা মবিল সংগ্রহ করে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত। মবিলের মান যথাযথ না হলে যানবাহনের ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার অভিযোগ

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, যশোরে লুজ মবিল সংগ্রহ, প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাদের দাবি, বিভিন্ন মহলের প্রভাব থাকায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলার সুযোগ পাচ্ছে।

গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হয়। তবে এসব অর্থ লেনদেনের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় কোনো নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কেউ কেউ পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

আবাসিক ভবন ও গোডাউনে কার্যক্রমের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাড়ি, গোডাউন বা ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে কিংবা আড়ালে লুজ মবিল প্যাকেটজাত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযোগের মধ্যে যশোরের হামিদপুর, বাউলিয়া, মান্দারতলা, ঢাকা রোড, হুশতলা, বকচর ও রাজারহাটসহ কয়েকটি এলাকার নাম এসেছে। তবে এসব এলাকার প্রতিটি স্থানে এমন কার্যক্রম চলছে কি না, তা সরেজমিন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আবাসিক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করা হলে পরিবেশ দূষণ ও অগ্নিঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

BSTI অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, আর জে এন্টারপ্রাইজে মবিল প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় BSTI অনুমোদন, মান সনদ, মোড়কজাতকরণ-সংক্রান্ত অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির কাগজপত্র, পণ্যের মান, প্যাকেটের লেবেল, মবিলের উৎস এবং প্যাকেটজাতকরণের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখুক।

পুরো সরবরাহচক্র তদন্তের দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, BSTI, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে তদন্ত বা অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা যাচাই করা হোক।

একই সঙ্গে লুজ মবিলের সরবরাহকারী থেকে শুরু করে প্যাকেটজাতকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অভিযোগের পেছনে কোনো চক্র, অবৈধ অর্থ আদায় কিংবা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘ভেজাল মবিল’, সিন্ডিকেট, মাসোহারা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ার বিষয়গুলো অভিযোগ ও সূত্রের তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পণ্যটি ভেজাল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নমুনা পরীক্ষা ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, প্রশাসন, BSTI, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।