, ,

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় এবি পার্টি

নিউজটি শেয়ার করুন

চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, হাবিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ কাভার করে আসছেন। তার অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের বিষয়ে ১ সেপ্টেম্বর তথ্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হলেও সেখানে বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বরং পিআইডির কর্মকর্তা  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

তারা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট, লিখিত ও আইনসম্মত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা জরুরি। কোনো সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করেছেন, কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন কিংবা ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তিতে ফেলেছেন,এ ধরনের কারণে অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে দমন করতে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, কার্ড না দেওয়া কিংবা প্রশাসনিকভাবে হয়রানির নজির ছিল। সেই সময় আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছি। তৎকালীন বিরোধী নেতৃত্বও জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং কালাকানুন বাতিল করা হবে।

আজ যখন সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে, তখন অতীতের একই ধরনের চর্চার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার পরিবর্তন শুধু ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তন নয়,এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও অঙ্গীকার।

সম্প্রতি চ্যানেল ওয়ানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন প্রচারের পরপরই অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের ঘটনা ঘটায় এ বিষয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের কারণেই কার্ড বাতিল করা হয়েছে কি না, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। অনুমান, গুঞ্জন কিংবা প্রশাসনিক অস্পষ্টতার মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না।

 

তারা আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করা সাংবাদিকের অপরাধ নয়; বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের কোনো প্রতিবেদন অপছন্দ হলে তার জবাব প্রতিবেদন, তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে দেওয়া উচিত,অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নয়।

 

এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের কার্ডটি পুনর্বহালের দাবি জানান।

 

তারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো সরকারের অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। যে স্বাধীনতার জন্য আমরা স্বৈরাচারী আমলে আন্দোলন করেছি, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই স্বাধীনতাই যদি সংকুচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রশ্নবিদ্ধ হবে।আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।