, ,

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ন্যাচারাল মেডিসিন ডাক্তার কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ: ‘বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৬’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল) মহোদয়ের সাথে এক সৌজন্য ও সাংগঠনিক সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশ ন্যাচারাল মেডিসিন ডাক্তার কমিটি’র নেতৃবৃন্দ।

​গত ১৬ই জুন (২০২৬) মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে কমিটির আহ্বায়ক লায়ন ডা: মো: কামরুল ইসলাম,ডা: অনিন্দ্য দত্ত, ডা: হাসান আহমেদ মাহাদি, ডা: মুস্তাফিজুর রহমান, ডা: আমোয়ার হোসেন এবং বিএনপি নেতা জনাব সামসুল কবির মিলন উপস্থিত ছিলেন।
​বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ১৯৮৩ সালের পুরোনো অর্ডিন্যান্স রহিত করে সদ্য প্রণীত “বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৬” দ্রুত বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পৌঁছে দিতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা মাননীয় মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন।
​বৈঠকে আলোচিত ও উপস্থাপিত প্রধান বিষয়সমূহ:
​১. আইনি কাঠামো ও চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধ:
নেতৃবৃন্দ নতুন আইনের অধীন প্রয়োজনীয় বিধি (Rules) ও প্রবিধান (Regulations) দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দেন। একই সাথে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল’ দ্রুত গঠন করার অনুরোধ জানানো হয়। ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকগণ যাতে আইনগতভাবে ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া প্র্যাক্টিস করতে পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এছাড়া প্রকৃত ডিগ্রি ও ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
​২. শিক্ষা, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা:
ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষকদের জন্য একটি যুগোপযোগী ও স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো এবং নিয়োগ-পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। সরকারি কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম বা সিলেবাস আধুনিকায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
​৩. AMC-এর নাম পরিবর্তন ও নতুন পদ সৃষ্টি:
দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রাকৃতিক চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার (AMC) নাম পরিবর্তন করে ন্যাচারাল মেডিকেল কেয়ার (NMC) করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই প্রকল্পের আওতাধীন পদগুলো দ্রুত স্থায়ী করা, শূন্যপদ পূরণ এবং প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অন্তত একজন করে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের স্থায়ী পদ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়।
​৪. ঔষধ শিল্প ও নকল প্রতিরোধ:
অফিসিয়াল ‘ফার্মাকোপিয়া ও ফরমুলারি’ আধুনিক মানদণ্ডে আপডেট করা এবং বাজারে প্রচলিত মানহীন ও ক্ষতিকর তথাকথিত ভেষজ বা ভেজাল হারবাল ঔষধের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) মাধ্যমে কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়।
​৫. গবেষণা তহবিল গঠন:
ভেষজ উদ্ভিদের গুণাগুণ নিয়ে আধুনিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও গবেষণার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ বা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
​মন্ত্রীর আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ প্রত্যয়:
প্রতিনিধি দলের চমৎকার সাংগঠনিক আলোচনা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা শুনে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও সবসময় এই কমিটির পাশে থাকার ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
​সাক্ষাৎ শেষে কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, মাননীয় মন্ত্রীর অমায়িক ব্যবহার, চমৎকার আপ্যায়ন এবং অসাধারণ আন্তরিকতা তাঁদের গভীরভাবে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক অগ্রযাত্রায় তাঁর এই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ন্যাচারাল মেডিসিন চিকিৎসকদের পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবে। নেতৃবৃন্দ মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।