জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ শেষ না হতেই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বইতে শুরু করেছে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় ইতোমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, উপহার প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে Facebook-এ ব্যানার প্রচারণার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ জোরদার করছেন। এসব কার্যক্রমের আড়ালে মূলত আগাম নির্বাচনী প্রচারণাই চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন পুকুরিয়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি একজন ত্যাগী, কারা নির্যাতিত এবং পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা জয়নাল আবেদীন বর্তমান পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আসহাব উদ্দিনের সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্র অধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তিনি দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেন।
তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজে সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি বাঁশখালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত স্বৈরাচারবিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে কখনো সরে দাঁড়াননি। বরং দল ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের সংগঠিত করা এবং এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মতে, জয়নাল আবেদীন একজন সৎ, সাহসী ও ত্যাগী নেতৃত্বের প্রতীক। তারা মনে করেন, তিনি সুযোগ পেলে বাঁশখালীর সার্বিক উন্নয়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত উপজেলা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সবমিলিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন-এর নামই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ত্যাগ, সংগ্রাম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বাঁশখালীর মানুষের কাছে এক আশার প্রতীকে পরিণত হচ্ছেন।







