বগুড়ার সাতমাথায় দিন দুপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বগুড়া মহানগরে প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পরপর দুটি বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
সাথে সাথে গোটা সাতমাথায় ধোঁয়ায় অন্ধকার হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া শহরের সাতমাথা জুলাই যোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভের পাশে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তবে কে বা কারা এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এ বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। ককটেল বিস্ফোরণের পর জনবহুল সাতমাথায় অবস্থান রত শত শত লোকজন দিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। ঘটনা ঘটার পর পর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছে। সাথেসাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পরপর দুটি বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতমাথা গোলচত্বরের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার পর থেকেই জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাতমাথার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগে গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পরপরই আরও একটি শব্দ শোনা যায় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা লোকজন ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। জানা গেছে, তিন দিন আগে ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে সারা দেশের মতো বগুড়াতেও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতেই সকাল থেকে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাতমাথায় অবস্থান নেন।
ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত জুলাই শহীদ আব্দুল আহাদ সৈকতের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একত্রিত হয়েছিলাম। কর্মসূচি শুরুর আগেই গোলচত্বরের দিকে বিকট শব্দ হয় এবং ধোঁয়া দেখতে পাই। ঢাকার ঘটনার পর আমাদের কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে কোনো দুষ্কৃতকারী এটি করেছে কি না, তা নিয়ে প্রথমে কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।’
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পটকা জাতীয় কিছু মনে হচ্ছে এবং এর কিছু আলামতও পাওয়া গেছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও সিটি করপোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শব্দের পরপরই এক তরুণ ও তরুণীকে সেখান থেকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই তরুণ-তরুণীকে শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে কারও মদদ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সাতমাথা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।







