, ,

তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া – একটি প্রতিবেদন

নিউজটি শেয়ার করুন

১. পরিচয় ও জন্ম
তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া ১৯১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের পিরোজপুরের ভীমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ছদ্মনাম ছিল “মানিক মিয়া”। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার।

২. সাংবাদিকতা ও ‘দৈনিক ইত্তেফাক’
১৯৪৯ সালে তিনি মওলানা ভাসানীর সহযোগিতায় “দৈনিক ইত্তেফাক” প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি ছিল সাপ্তাহিক, ১৯৫৩ সালে দৈনিক রূপ পায়।
“রাজনীতির ৫০ বছর” নামে তার ধারাবাহিক কলাম ছিল সে সময়ের রাজনীতির আয়না। তিনি ছদ্মনাম “মুসাফির” নামেও লিখতেন। লেখার ভাষা ছিল সহজ, সরল কিন্তু শাণিত। শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।

৩. রাজনৈতিক ভূমিকা
মানিক মিয়া ছিলেন বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নীরব কান্ডারি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসন – সব ক্ষেত্রেই তার কলাম জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।

৪. গ্রেফতার ও মৃত্যু
সত্য কথা লেখার জন্য বারবার জেল খেটেছেন। আইয়ুব খানের আমলে ১৯৬২ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেল থেকে মুক্তির অল্পদিন পর ১৯৬৯ সালের ১ জুন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৮ বছর। তাকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৫. অবদান ও স্বীকৃতি
তিনি একাধারে সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। “দৈনিক ইত্তেফাক” এর হাত ধরেই বাংলাদেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভিত গড়ে ওঠে। মৃত্যুর পর ১৯৭১ সালে তাকে “স্বাধীনতা পুরস্কার” দেওয়া হয়। ঢাকার একটি প্রধান সড়কের নামও তার নামে – “মানিক মিয়া এভিনিউ”।

সংক্ষেপে বললে, মানিক মিয়া ছিলেন কলমের সৈনিক। ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সত্য বলা ও মানুষকে সচেতন করাই ছিল তার জীবনের ব্রত।

 

সংগৃহীত: নিউজ