, ,

কুমিল্লায় নাঙ্গলকোটে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ইউনিয়নের চক্রলোদী গ্রাম থেকে সায়েমা আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ।

সায়েমা চক্রলোদী গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি জাহিদ হোসেনের (২৫) স্ত্রী। গত ৬ মাস পূর্বে পারিবারিক ভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক সায়েমার সাথে জাহিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জাহিদ ও তার পরিবার উপহারের নামে বিভিন্ন মালামাল দাবি করে, সায়েমার রিক্সা চালক পিতা তাদের চাহিদা গুলো মেটাতে না পারায় পারিবারিক কলহ শুরু হয় বলে জানান নিহতের পরিবার। এছাড়া স্বামী জাহিদ নোয়াখালী’র এক নারীর সাথে পরকীয় লিপ্ত থাকায় এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন সায়েমার বড় বোন সাহিদা । জাহিদ চক্রলোদী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র। সায়েমা আক্তার একই ইউনিয়নের আনজিয়া পাড়া গ্রামের রিকশা চালক মোহাম্মদ শামীমের কন্যা। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের এস আই নাহিদ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূ সায়েমার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে । গৃহবধূ সায়েমাকে স্বামী জাহিদ হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন হত্যা করে ঘরের সিলিং এর সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে দাবি করে এ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি জানান তার পিতা শামীম ও মাতা কুসুম বেগম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চক্রলোদী গ্রামের স্বামী জাহিদ হোসেনের টিনশেড ঘরের দরজার পাশে মাটিতে পা রাখা অবস্থায় ঘরের সিলিং এর সাথে ঝুলে আছে গৃহবধূ সায়েমের নিথর দেহ। পাশে মাটিতে লুটিয়ে সায়েমার মা, বাবা, বোন ও স্বজনরা আহাজারি করছে। লাশ উদ্ধারের খবরে আশপাশের শতশত মানুষ ভিড় জমায়। বাড়িতে সায়েমার শ্বাশুড়ি ও জা ব্যতিত পরিবারের কোন পুরুষ মানুষকে পাওয়া যায়নি।

নিহত গৃহবধূ সায়েমা’র পিতা শামীম, মা কসুম বেগম বলেন, ৬ মাস পূর্বে ১৭ বছর বয়সী সায়েমার বিয়ে হয় জাহিদের সাথে। বিয়ের পর থেকে জাহিদ আমাদের কাছে ফার্নিচার, কোরবানির ঈদে খাসি ছাগল, শীতের পিঠা, তাদের আত্মীয় স্বজকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো সহ বিভিন্ন দাবি করে। আমরা তার দাবিদাওয়া পূরণ করতে না পারায় সে প্রায় সময় আমাদের মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ ও নির্যাতন চালায়। সর্বশেষ সে বৃহস্পতিবার রাতে আমার মেয়েকে খুন করে মাটিতে পা রাখা অবস্থায় ঝুলিয়ে রেখে ঘরের দরজা লাগিয়ে পিছনের টিন খুলে পালিয়ে যায়।

সায়েমার বোন সাহিদা ও শারমিন আক্তার বলেন, জাহিদ আমার বোনকে যৌতুকের দাবিতে অনেক নির্যাতন করত। আমারা ৪বোন, আমাদের কোন ভাই নেই। বাবা রিকশা চালিয়ে পরিবার চালায়, তাই তাদের সব দাবি পূরণ করতে পারেনি। তাছাড়া জাহিদের নোয়াখালীতে এক মেয়ের সাথে বিয়ের আগে থেকে সম্পর্ক ছিলো, বিয়ের পরও সে ওই মেয়ের সাথে পরকীয়া চালায়। পরকীয়ার বিষয়ে কথা বললে সে প্রায় সময় আমার বোনকে মারপিট করতো। সর্বশেষ সে আমার বোনকে হত্যা করে ফেলেছে, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদের মা সেনোয়ারা বেগম বলেন, সকালে সায়েমা দরজা না খোলায় আমার বড় বৌ সায়েমার বাবা-মাকে ফোন দেয়। তারা এসে দরজা খুলে দেখে সায়েমা আত্মহত্যা করেছে। আমার ছেলে জাহিদ চট্টগ্রাম ও জহির ঢাকায় কাজ করে, তারা কেউ বাড়িতে নেই।

নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।