কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট ও স্বাধীনতার দাবিতে রাজধানীতে সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। মঙ্গলবার কাশ্মীরের কালো দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৪৮ সালের ৪৭ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী ২৯ অক্টোবর ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সেনারা শ্রীনগরে প্রবেশ করে কাশ্মীরের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। কাশ্মীরিদের অধিকার কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি তাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন। গণভোটে কাশ্মীরের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে ভারতকে তা মেনে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত আট দশকে কাশ্মীরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচার আটক, হেফাজতে মৃত্যু, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌনসহিংসতার অভিযোগ করেন। এসব নিপীড়ন বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে কাশ্মীরের জনগণের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শুভ ও শাহ ফেরদৌস হাসান নাজমুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার এবং জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম, সেলিম রেজা বাচ্চুসহ সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় রাজধানীর নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।






