নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক ও রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ
শফিক ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাড়ি নির্মাণের পারিশ্রমিক, কাঠের হিসাব ও চলাচলের রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনাজপুর জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আনোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুখদেবপুর এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামানকে আটক করে। পরে একই রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আশিকুজ্জামান আলমিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন সম্পর্কে সহোদর। তাঁদের বাবা মোস্তাহার হোসেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পার্বতীপুরের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠের হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল রোমানের বিরোধ তৈরি হয়। এ ছাড়া বাড়ির পাশের চলাচলের রাস্তার জমি নিয়ে আল রোমানের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় আশিকুজ্জামান আলমিয়া ও তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানের বিরোধ চলছিল।
তিনি আরও জানান, নিহত মনোরঞ্জন রায় প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বন্ধু ছিলেন। প্রায় ১৩ বছর আগে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পরিবারের দেখভাল করতেন মনোরঞ্জন রায়। সেই সূত্রে ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে বিরোধের জেরে ফরতাজ হোসেন, আশিকুজ্জামান আলমিয়া ও আসাদুজ্জামান আজিজুল হকের বাড়িতে যান। সেখানে আজিজুল হকের স্ত্রী রোমানা আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, হামলাকারীরা গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মনোরঞ্জন রায়কে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধাওয়া করা হয়। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে তিনি পাশের একটি ধানক্ষেতে পড়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, মনোরঞ্জন রায় দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম এবং তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল মাবুদ, পিপিএমের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে পার্বতীপুর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





