আত্মীয় মোর মস্তো নেতা
আত্মীয় মোর মস্তো নেতা,
উপদেশ দিবেন সদা সত্য যাহা।
তাহাই শিরোধার্য, মেনে নেয় যদি অনুজ।
আঁগোর শেষ দশা কি যাযাবর, অগ্রজ ?
দিনের অবসানে মেঘের দল মেলায় ডানা,
ক্ষণিকের ফরাকে নেমে আসে অমানিশা,
বেঁচে থাকার কাকুতি মিনতি নেতাজী শুনল না।
আত্মীয় মোর মস্তো নেতা।
আত্মীয় মোর বড়ো নেতা।
নেতা, ও নেতা! এতো রাগ তোঁগোর!
স্তম্ভিত, কম্পিত, শংকিত হৃদয় আঁগোর।
সন্দ্বীপ চ্যানেলে একদা তলা ফেটে ডুবে গিয়েছিনু সাম্পান মোদের,
নিজ জীবনের নাহি পরওয়া হাসান দোস্ত মোর,
কহিল, মাস্তুলে যাও – বন্ধু ভয় নাহি পাও,
দুখানা তহবন্দ ফানুসে শিরো বন্ধ, একখানা ধরিয়ে হাতে মোর, লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়, উত্তাল সমুদ্র তরঙ্গের ওপর।
ডুবু ডুবু মাস্তুল, সিংহ গর্জন তরঙ্গ ডাকছে, হাঁক ছেড়ে বলে, ভেসে না যাই যেন দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে, মুহূর্তে তহবন্দ হয়ে গেল বয়া মোর,
ঢেউ এ ঢেউয়ে ভাসছি, তরঙ্গ এ তরঙ্গে দেখেছি, ভেসে যাচ্ছে লাশে লাশ, কাতারে কাতার।
সেই যাত্রায় দুই বন্ধু মোরা মরে বেঁচে গিয়েছিনু খোদার রহমতে উছিলা বন্ধু হাসান মেন্টর।
আজো সেই বিভীষিকাময় মৃত্যুঞ্জয়ী ইতিবৃত্ত, তাড়িয়ে বেড়ায় আমায় নিত্য, স্মরণ করিয়ে দেয় মানবিকতার দৃষ্টান্ত।
আত্মীয় মোর মস্তো নেতা,
উপদেশ দিবেন সদা সত্য যাহা।
বিপদে মোরে রক্ষা করতে পারলেও উপকার তিনি করলেন না।
অনাত্মীয় হলো পরমাত্মীয়, তিন যুগ আগে হারিয়ে গেল,
রয়ে গেল তার স্মৃতি, ভোলা অঞ্চলে তার বাড়ি,
তাঁকে কখনো কি ভুলিতে পারি।
তেমনি স্মৃতিতে হারাবে না যে,আত্মীয় মোর মস্তো নেতা- অনুকম্পা তাঁর- মোর কপালে জুটল না।
অনুকম্পা তাঁর- মোর কপালে জুটল না।



