বিশেষ প্রতিবেদক: ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; স্ত্রী ও সাবেক কর্মকর্তার জামিন না মঞ্জুর
সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আব্দুল খালেক মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একই মামলার অপর দুই আসামি খালেক মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিইও আব্দুল খালেক মিয়া, তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার এবং সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তানভীর ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) লাইসেন্স নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আব্দুল খালেক মিয়া ২০১৬ সালের ১৯ মে থেকে ২০২২ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের নমিনি পরিচালক ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য তাঁকে সিগনেটরি মনোনীত করা হয়েছিল। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন ও তদারকির দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে খালেক মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তারের নামে ৩০ লাখ টাকা স্থানান্তর, কাল্পনিক ব্যক্তির নামে একাধিক ক্যাশ চেক ইস্যু এবং সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৪ মে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত খালেক মিয়াকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তারের কাছেও ৩০ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের দাবি, এসব বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ফেরত দিতে ২০২৫ সালের ২৫ জুন আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আদালতে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম







