১. যুদ্ধ বিরতি, কিন্তু নতুন হামলার হুমকি:
যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলা দিয়ে। এখন প্রায় ৮ মাস ধরে থমথমে বিরতি চলছে।
কিন্তু আমেরিকায় আজ মিডটার্ম নির্বাচন (কংগ্রেস নির্বাচন) এবং ইসরায়েলে গত মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন হয়েছে — এই দুই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা।
– প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মিডটার্মের পর ইরানে নতুন করে হামলা হতে পারে। গতকাল বলেছেন “যুদ্ধ খুব শীঘ্রই একভাবে না একভাবে শেষ হবে — হয় ডিল হবে, না হয় আমরা শেষ করে দেব।”
– ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান সরকারকে ফেলে দেওয়ার এটা “ঐতিহাসিক একবারের সুযোগ”। তিনি ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নির্বাচনের পরপরই হামলা করতে।
– ট্রাম্পের টিমের ভেতরে মতভেদ আছে — জয়েন্ট চিফ জেনারেল ড্যান কেইন সহ অনেকে হামলার উপকারিতা নিয়ে সন্দিহান।
২. ইরানের কঠোর হুশিয়ারি:
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর) শনিবার সেনা প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছেন — আমেরিকা-ইসরায়েল হামলা করলে “ভৌগলিক সীমা ছাড়াই, তাৎক্ষণিক এবং প্রভাবশালী” জবাব দেওয়া হবে। ইরানি এমপি মানুচেহর মোত্তাকি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা ইউরোপ পর্যন্ত ছড়াবে, তাদের মিসাইল ইউরোপে পৌঁছাবে।
৩. হরমুজ প্রণালী বন্ধ — তেলের বাজার অস্থির:
ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ দিয়েছে, মাইন পুঁতে রেখেছে। গত শুক্র-শনিবার ৩টি তেল ট্যাংকার ও একটি কাতারের LNG জাহাজে বিস্ফোরণ/আগুন লেগেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল যায়। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড এখন ১১১-১১৩ ডলার — দাম বাড়ায় আমেরিকায় ভোটাররা ক্ষুব্ধ।
৪. কূটনীতির চেষ্টা চলছে:
কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে।
– কাতারের প্রতিনিধি দল শুক্রবার তেহরানে ১২ ঘণ্টা বৈঠক করেছে, শনিবার ইরানি দল দোহায় গেছে।
– আলোচনা হচ্ছে ইরানের দেওয়া ৭-ধাপের পরিকল্পনা নিয়ে, যেটা এখন ২ দিনে বাস্তবায়নযোগ্য করা হয়েছে: হরমুজ প্রণালী ২ দিনে খুলে দেওয়া, বিনিময়ে আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে, আটকে থাকা সম্পদ ছাড়তে হবে, এবং সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে।
– ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন। মার্কো রুবিও বলেছেন, “কূটনৈতিক সমাধান হলে আমরা প্রস্তুত।”
মোট কথা, আজকের আমেরিকার ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে — ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ট্রাম্প চাপে থাকবেন, রিপাবলিকানরা টিকলে ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ বড় হামলার সম্ভাবনা বেশি। আপাতত সবাই নির্বাচনের ফলের অপেক্ষায়।







