নয়ন রায়, বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন: বিদেশের মাটিতে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রেখে মানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে লন্ডনের স্বনামধন্য দাতব্য সংস্থা (চ্যারিটি) ‘দ্য হিন্দু সোসাইটি লন্ডন ইউকে’। গত চার বছর ধরে সংস্থাটি লন্ডনে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন থেকে শুরু করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটি লন্ডনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একত্রিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিগত চার বছরে তারা অত্যন্ত সফলভাবে ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে সনাতনীদেথ প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা,
সেই সাথে সরস্বতী পূজা, কালী পূজা এবং মহাশিবরাত্রির মতো পবিত্র ধর্মীয় উৎসবগুলো সম্পন্ন করেছে।
এসব আয়োজন কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
দা হিন্দু সোসাইটি লন্ডন পাঁচ দিনব্যাপী পূজার আয়োজন করে থাকে।
প্রতিদিন দুবেলা ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ এবং দুর্গাপুজোর প্রতি রাতেই মনোজ্ঞ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
[ ] ছাত্রছাত্রী ও প্রবাসীদের আস্থার ঠিকানা
লন্ডনে আসা নতুন শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাঙালিরা প্রায়ই নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। ‘দ্য হিন্দু সোসাইটি লন্ডন ইউকে’ এই নতুন মুখ ও ছাত্রছাত্রীদের পাশে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে দ্যা হিন্দু সোসাইটির লন্ডন এর সভাপতি শিপন বর্মন বলেন আবাসন, পড়াশোনা কিংবা জীবনযাত্রার নানা সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে কাউন্সেলিং ও সহায়তা প্রদান করে থাকেন। আমাদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রবাস জীবনে অনেক শিক্ষার্থীকে জুগিয়েছে মানসিক সাহস ও নিরাপত্তা।
[ ] সীমানা পেরিয়ে মানবতার সেবা:
কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, জন্মভূমির মানুষের প্রতিও নিজেদের দায়বদ্ধতা ভুলেনি এই চ্যারিটি সংস্থা। বাংলাদেশের অসহায় ও শীতার্থ মানুষের মাঝে শীতকালীন বস্ত্র বিতরণ, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৈষয়িক সহায়তা প্রদান এবং হতদরিদ্র অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক অনুদান পাঠিয়ে আসছে সংস্থাটি।
তাদের এই পরোপকারী কার্যক্রম দুই দেশেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
আগামীর প্রত্যাশা:
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহা ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা মনে করেন, আর্তের সেবা এবং নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষা করাই তাদের মূল ব্রত।
সমাজের বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই সেবামূলক কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
‘দ্য হিন্দু সোসাইটি লন্ডন ইউকে’ তাদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে কেবল একটি ধর্মীয় বা সামাজিক সংস্থাই নয়, বরং প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।







