বাংলাদেশ আজ তথ্যপ্রযুক্তি ও মুক্ত গণমাধ্যমের এক নতুন সোনালী দিগন্তে অবস্থান করছে। গণমাধ্যম কেবল সংবাদের মাধ্যম নয়; বরং এটি সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদী কণ্ঠ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ার। আর এই লক্ষ্য ও দর্শনকে বুকে ধারণ করেই আজ থেকে এক দশক আগে আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় দৈনিক ‘স্বদেশ বিচিত্রা’। সত্য প্রকাশের কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে, অগণিত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা আজ গৌরবান্বিত দশম বর্ষ পেরিয়ে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের মানুষ, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইল অন্তরের গভীর থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
একটি পত্রিকার পথচলা কখনোই মসৃণ হয় না। বিশেষ করে আধুনিক যুগে সংবাদের বিশ্বস্ততা রক্ষা করা, দ্রুততার সাথে সঠিক সংবাদ পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেওয়া এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা গত দশটি বছর ধরে সেই চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করে আসছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং গণমানুষের মৌলিক দাবিগুলোকে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর করার ক্ষেত্রে স্বদেশ বিচিত্রার অবদান অপরিসীম।
একটি গণমাধ্যমের সফলতার পেছনে থাকে একঝাঁক দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ কর্মী এবং নিবেদিতপ্রাণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা। স্বদেশ বিচিত্রার এই ১০ বছরের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ যাত্রায় যার দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের এই বিশ্বস্ততার স্থানে উন্নীত করেছে, তিনি হলেন পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক ও প্রকাশক অশোক কুমার ধর। তাঁর সততা, বিচক্ষণতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি অবিচল নিষ্ঠাই স্বদেশ বিচিত্রার মূল চালিকাশক্তি। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে পত্রিকাটি আজ পাঠক হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে সম্পাদক ও প্রকাশক অশোক কুমার ধর মহোদয়কে জানাই আমার অন্তরের গভীর থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সংবাদপত্রের পেছনে থাকে অনেক অদেখা হাত। রাত-দিন এক করে যারা কাজ করে যান নিউজরুমে, প্রেসে, বিপণন ও প্রশাসনিক বিভাগে—তারা হলেন এই পত্রিকার প্রাণ। এই শুভক্ষণে স্বদেশ বিচিত্রার সর্বস্তরের কর্মকর্তা, বার্তা সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, প্রতিবেদেক, সকল বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা মাঠপর্যায়ের সাহসী সাংবাদিক ও সহযোদ্ধাদের অবদানও অনস্বীকার্য। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সত্য তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেন, সেই সকল সহযোদ্ধা সাংবাদিকদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমই স্বদেশ বিচিত্রার মূল শক্তি।
গণমাধ্যমের আসল প্রাণ হলো তার পাঠক সমাজ। পাঠক ছাড়া একটি পত্রিকার অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। গত এক দশক ধরে যে সকল সুধী পাঠক, কলামিস্ট, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং শুভাকাঙ্ক্ষী স্বদেশ বিচিত্রার ওপর অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। আপনাদের মতামত, ভালোবাসা ও গঠনমূলক সমালোচনাই স্বদেশ বিচিত্রাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করেছে। এই দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বদেশ বিচিত্রার সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত অভিনন্দন।
দশ বছরের পথপরিক্রমা কেবল একটি মাইলফলক নয়, এটি নতুন এক দায়িত্বের সূচনা। আগামী দিনেও জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও গণমানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সমন্বয়ে স্বদেশ বিচিত্রা প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সাংবাদিকতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাক।
পরিশেষে, জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক। এর সম্পাদক ও প্রকাশক অশোক কুমার ধর সহ সকল কর্মকর্তা, কলাকৌশলী, সহযোদ্ধা, পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। স্বদেশ বিচিত্রার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক, সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আলো ছড়াক টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত।
শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী! শুভকামনা ‘দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা’!







