যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গড়ে লিটারপ্রতি ২ পাউন্ডের সীমা ছাড়িয়ে গেল। দেশটির মোটরিং সংস্হা এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার ২রা অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের গড় পাম্প মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০০.০১ পেন্স বা ২.০০০১ পাউন্ড প্রতি লিটার। এর মধ্য দিয়ে দেশটির জ্বালানি বাজারে ডিজেলের দামে নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি হলো।
এর আগে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের সর্বোচ্চ গড় মূল্য ছিল ১৯৯.০৯ পেন্স প্রতি লিটার, যা ২০২২ সালের জুনে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের পর সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় রেকর্ড হয়েছিল। এবার সে রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল ডিজেলের দাম।
এক ট্যাংক ডিজেলেই খরচ প্রায় ১১০ পাউন্ড।নতুন এই মূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে সাধারণ গাড়ি চালকদের ওপর। মোটরিং সংস্হার হিসাব অনুযায়ী, ৫৫ লিটারের একটি সাধারণ পারিবারিক গাড়ির ট্যাংক পুরোপুরি ডিজেল দিয়ে ভরতে এখন গড়ে ১১০.০১ পাউন্ড খরচ হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – এ একই পরিমাণ ডিজেল কিনতে খরচ হতো প্রায় ৭৮.৩১ পাউন্ড। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একটি ট্যাংক পূরণের খরচ বেড়েছে প্রায় ৩১.৭০ পাউন্ড। মোটরিং হিসাবে ২৮ ফেব্রুয়ারির ১৪২.৩৮ পেন্স থেকে ২ অক্টোবর ২০০.০১ পেন্সে উঠে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৫৭.৬ পেন্স বা প্রায় ৪০.৫ শতাংশ।
কেন হঠাৎ এত বাড়লো ডিজেলের দাম? বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তাই বতর্মান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
প্রতি মাইলে প্রায় ২০ পেন্স জ্বালানি খরচ : দাম বৃদ্ধির প্রভাব কতটা গভীর, তার একটি চিত্রও দেখা যেতে পারে। গড়ে প্রতি গ্যালনে ৪৫ মাইল চলতে পারে এমন একটি ডিজেল গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২০ পেন্স প্রতি মাইল। অর্থাৎ বছরে ১০ হাজার মাইল গাড়ি চালালে শুধু ডিজেলের পেছনেই প্রায় ২ হাজার ২০ পাউন্ড খরচ হতে পারে।
পেট্রোলের দামও ঊধ্বমুখী। শুধু ডিজেল নয়, যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দামও দ্রুত বাড়ছে।পরিবহন ও ব্যবসায় বড় চাপ : ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুক্তরাজ্যের পণ্য পরিবহন, ডেলিভারি ভ্যান, ট্যাক্সি, কৃষি ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক যানবাহনে বড় একটি অংশ ডিজেলনির্ভর। ফলে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ও পণ্য সরবরাহে খরচও বাড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত







