অবহেলিত উত্তরভাগ ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, টেকসই পরিবর্তন এবং জনকল্যাণে জনাব ইয়ামীর আলী স্যারের মতো প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতৃত্বের গুরুত্ব আজ অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলার সম্মানিত সেক্রেটারি হিসেবে বৃহৎ পরিসরে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এলাকার যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নিঃস্বার্থভাবে গণমানুষের পাশে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
তৃণমূলের রাজপথ থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে জনগণের অধিকার আদায় এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। বৈরী রাজনৈতিক ঝড়-ঝাপ্টা, হামলা-মামলা কিংবা প্রতিকূল পরিবেশের মুখেও তিনি কখনো নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও গণমানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন আপসহীন এক কান্ডারী। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে তাঁকে কারাবরণ ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে; তবুও উত্তরভাগের গণমানুষের সেবা ও সংগঠনের আদর্শ প্রচার থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটেননি। তাঁর এই ত্যাগ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক সংগ্রাম তাঁকে সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশ্বস্ত অভিভাবকের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
তবে এই জনপদের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন ও প্রত্যাশা আরও অনেক বড়—তারা তাঁকে আরও উচ্চতর পরিসরে দেখতে চায়। ২০১১ সালের ইউনিয়ন নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের স্মৃতি আজও মানুষের মনে অম্লান। সেই সময়ের পরও এই অঞ্চলের গণমানুষের প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা, অপরিসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা ছিল, তার প্রতিদান আজও মানুষ দিতে উন্মুখ। তাই তো উত্তরভাগবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা তাঁর প্রতি আগের মতোই অটুট রয়েছে।
জেলার মতো বৃহৎ সাংগঠনিক পরিসরে দায়িত্ব পালনের পরও কেন তিনি পুনরায় ইউনিয়নের রাজনীতি ও মানুষের সেবায় এগিয়ে এলেন—অনেকের মনে এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। এর সহজ ও স্পষ্ট উত্তর—নাড়ির টানে। নিজের শেকড়, প্রিয় জন্মমাটি এবং এলাকার মানুষের প্রতি গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি উত্তরভাগ ইউনিয়নের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর প্রিয় সংগঠনও তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঁপে দিয়েছে।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন জনাব ইয়ামীর আলী ত্রাতা হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গেছেন। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে, দুর্গম বানভাসি অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ওষুধ সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়—রাজনীতি হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবসেবার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
শিক্ষা জীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি মৌলভীবাজারের মুসলিম কোয়ার্টারে অবস্থিত শাহ মোস্তফা একাডেমীর প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘ কারাবরণ ও ত্যাগের পটভূমি এবং যেকোনো মানবিক সংকটে মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই বিরল দৃষ্টান্তের সঠিক মূল্যায়ন উত্তরভাগবাসী করবে। আগামী দিনে জনগণ তাঁর যোগ্যতা ও দীর্ঘ ত্যাগের উপযুক্ত সম্মান ও সমর্থন জানাবে।







