নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হাজী সফর উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি একজন সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন দিনমজুর। বাবার সঙ্গে কষ্ট করে কাজ করেই তিনি জীবনের শুরু করেন। পরবর্তীতে আল্লাহর রহমতে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিজের জীবনমানের উন্নয়ন করেন তিনি।

তবে তার অভিযোগ, এই সাফল্যই একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এর ফলে তাকে কারাভোগ করতে হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হাজী সফরুদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ, সাধারণ সম্পাদক লিটন এবং ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহেদ খন্দকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তার বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর এবং অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দিয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং ওই অর্থ বন্দর থানার সাবেক ওসি তরিকুল ইসলামের জন্য প্রয়োজন বলে দাবি করেন। এছাড়া মতিঝিলের কিচেন ইয়ার হোটেলে মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তার ছেলে জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক এবং নগদ ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তার আরও দাবি, রিমান্ডে নির্যাতন থেকে রক্ষা করার কথা বলে সাবেক ওসি তরিকুল ইসলাম ৮ লাখ টাকা এবং এসআই মাহমুদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে আরও ১ লাখ টাকার একটি চেক নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হাজী সফর উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহেদ খন্দকার এবং বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণের এর নেতৃত্বে তার টোটাল লেবেল ফ্যাক্টরির ওয়েস্টেজ ব্যবসার মালামাল নিয়ে গিয়ে বাইরে বিক্রি করা হয়, যার মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি বলেন।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য, কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে ।
হাজী সফর উদ্দিন দাবি করেন, তার বাড়িঘর থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার জীবননাশের আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান।
তিনি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কাছে তার অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।







