, ,

তিতাসে ২০-২৫টি ট্রলারে হাজারো মানুষের তাণ্ডব: নিহত ১, আহত অন্তত ১৫, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ভাটারা (চর বাটারা) গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রলারযোগে এসে ভয়াবহ হামলা, তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, হামলায় পার্শ্ববর্তী মেঘনা থানার অধীন কোহিনূর (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং তিতাস এলাকায় অন্তত ১৫ জন টেঁটাবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন,
​ঘটনার নেপথ্য ও সূত্রপাত
​ভুক্তভোগী মোঃ কবির হোসেনের (৪১) দেওয়া তথ্যমতে, জমিজমা ও স্থানীয় নানা বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে গত ৪০-৪১ দিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল,পূর্বেও ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এসি ল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার-ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ ও কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী কোনো নিষ্পত্তি হয়নি,
​সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত হয় সোনারগাঁও বাজার মেঘনা এলাকায়, সেখানে কুয়েত ফেরত প্রবাসী শাহজাহান কেনাকাটা করতে গেলে বিনোদপুর ও আলিপুরের কিছু লোক একজোট হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে, খবর পেয়ে মেঘনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রবাসীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়,
​ট্রলারে করে এসে তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞ,​সোনারগাঁও বাজারের হামলার জের ধরে ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ট্রলারে করে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার সশস্ত্র লোক একযোগে নতুন বাটারা গ্রামে হামলা চালায়,হামলাকারীরা নদীপথে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ট্রলার ভিড়িয়ে একযোগে বসতবাড়িতে উঠে ধারালো অস্ত্র, রামদা ও টেঁটা নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,
​হামলাকারীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ আলম (শাহনুর) মেম্বারের পুরো ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঘরের যাবতীয় মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, এছাড়া মাতবর আলীর তিন ছেলে—আলী আহমেদ, নূর মোহাম্মদ ও সফিকের ৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়,
​নিহত ও আহতদের তালিকা
​হামলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ও টেঁটার আঘাতে গ্রামের অসংখ্য মানুষ রক্তাত্ত ও আহত হন,এতে মেঘনা থানা এলাকার কোহিনূর (৩৭) নামে একজন নিহত হন,
​তিতাস অংশে টেঁটাবিদ্ধ ও মারাত্মক আহতদের মধ্যে রয়েছেন:​মোঃকবির হোসেন (৪১)​কাউছার আলম (৩১),​সফিক মিয়া (৩৫),হারুন মিয়া (৫৫),​দুলাল মিয়া (৬৫),​মোকবল হোসেন (৪০)
​আক্তার হোসেন (৩৫),​মামুন (২৫),আরিফ হোসেন (২২)​,রানা মিয়া (৪৫),​সজিব মিয়া (৩০),​সাবির হোসেন (৪১)​আহতদের অনেকের মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো রামদার মারাত্মক কোপ এবং টেঁটার জখম রয়েছে,আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে,তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক,
​বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ ​এ ঘটনার পর থেকে তিতাসের নতুন চর বাটারা, মেঘনা থানাধীন আলিপুর ও ভিটিকান্দি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, ভুক্তভোগীরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন,
​ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে পুলিশে অভিযোগ দাখিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে,এলাকাটিতে নতুন করে সংঘাত এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে,