, ,

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: কুয়েত-কাতার-আরব আমিরাতে মিসাইল আতঙ্ক, উদ্বেগে লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এখন সরাসরি সংঘাতের রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক মিসাইল ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের ওপর দিয়ে ধেয়ে আসা মিসাইল ও বিস্ফোরকের শব্দে সেখানে বসবাসরত লাখো প্রবাসী বাঙালির মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার চিত্র
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে ইরান ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ-৪’ এর আওতায় কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক দফা মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব এবং আবু ধাবির আকাশসীমায় অসংখ্য ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের বিস্ফোরণ দেখা গেছে। আবুধাবিতে জরুরি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুয়েত ও কাতার: কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন বিস্ফোরণ এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটির সুরক্ষা বলয় ভেদ করার চেষ্টায় নিক্ষিপ্ত মিসাইলের বিকট শব্দে প্রবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

বাহরাইন: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

বাঙালি প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধের এই আকস্মিক বিস্তৃতিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
১. নিরাপত্তা ঝুঁকি: অনেক প্রবাসী সরাসরি যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এর আগে দেখেননি। আকাশজুড়ে আগুনের গোলা এবং সাইরেনের শব্দে সাধারণ শ্রমিকরা কাজ ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
২. যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বা জরুরি প্রয়োজনে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিরা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
৩. ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা: দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হলে কর্মসংস্থান হারানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা
কুয়েত, কাতার ও আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় সরকারের নির্দেশ মেনে চলা, সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। সরকারের উচিত এখনই একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো।