ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল-স্মারকলিপি পেশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী দাসত্বের বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে করা ইজারা চুক্তিসহ সকল অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করা, সুন্দরবন ধ্বংস করে এলএনজি টার্মিনাল করার চক্রান্তের প্রতিবাদে ও আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে, দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্যোগে আজ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার, বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, ইকবাল কবির জাহিদ, ডা. মুশতাক হোসেন, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু, হারুনার রশীদ ভূইয়া, রজত হুদা, আব্দুল আলী, শিবলুল বারী রাজু, সৈয়দ হারুন অর রশীদ, শহীদুল ইসলাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী রতন। সমাবেশে প্রবীন বামপন্থি নেতা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান, কমরেড খালেকুজ্জামান, কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কমরেড মো. শাহ আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বিশিষ্ট কবি মোহন রায়হানসহ বিভিন্ন ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক, কৃষক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে লিখিত ঘোষণা, প্রস্তাবাবলী ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সমাবেশের পূর্বে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বন্ধুরা। আবৃত্তি করেন হাসান ফখরী।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে অধীনতামূলক বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনমত উপেক্ষা করে গোলামী চুক্তি বাস্তবায়ন করে চলেছে। জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট চুক্তির বিরোধীতা না করে প্রকারান্তরে চুক্তিকে সমর্থন করছে। কেবলমাত্র বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশবিরোধী এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের সবকটি টার্মিনাল হাসিনা-ইউনূস ও তারেক রহমানের সরকার ধারাবাহিকভাবে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দিয়ে চলেছে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ও হৃৎপিণ্ড বলে খ্যাত বন্দরকে বিদেশি কর্তৃত্বে ছেড়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী তসকরদেরকে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির মতো দেশ দখলের চক্রান্তের ক্রীড়ানক হিসাবে কাজ করবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় স্লোগান দিয়েছিল দিল্লী না ঢাকা, এখন দেখা যাচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগান উচ্চারণকারী সরকার সবার আগে আমেরিকা নীতি নিয়ে চলছে। শেখ হাসিনা বলছিলেন, তিনি ভারতকে যা দিয়েছেন, তা ভারত চির দিন মনে রাখবে। আর দিল্লীর আধিপত্যবাদ বিরোধী স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেওয়া ৯৪ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং অবাক করা বিষয় দিল্লীর কোম্পানিকেই এই মেট্রোরেলের ঠিকাদারী কাজ দেওয়া হয়েছে। ফলে সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু শাসক শ্রেণির বুর্জোয়া দল ও সরকারসমূহের কাছে দেশ কোন মতেই নিরাপদ না। তারা এক সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে আরেক সাম্রাজ্যবাদের কাছে দেশকে পদানত করে।
নেতৃবৃন্দ দেশ, জনগণ ও দেশের সম্পদ রক্ষায় পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে ২ মাসব্যাপী জেলা-উপজেলায় সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা, গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।





