নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হাজিনগর এলাকায় মাত্র ২০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক অসহায় সবজি বিক্রেতা ও তার ১৪ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলের ওপর বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সাগরের অনুসারী বাধন ও তার দলবল এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী সবজি বিক্রেতা আলী হোসেন (যিনি এলাকায় মোহাম্মদ আলী নামে পরিচিত) জানান, তিনি মূল রাস্তা বা ফুটপাত এড়িয়ে একটু ভেতরের দিকে একটি ভ্যানগাড়িতে তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে সবজি বিক্রি করছিলেন। ঘটনার সময় তিনি চা খেতে গেলে ‘বাধন’ নামের স্থানীয় এক যুবক এসে তাদের ভ্যান সরিয়ে নিতে বলে এবং সেখানে থাকার জন্য ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।
আলী হোসেনের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং প্রতিবাদ করায় আলী হোসেনের স্ত্রীর গায়ে একটি কদবেল ছুঁড়ে মারে।
পরিস্থিতি এখানেই থেমে থাকেনি। ভুক্তভোগী আলী হোসেন জানান, বাধন ফোন করে মুহূর্তের মধ্যে ২০-৩০ জন যুবককে ডেকে আনে। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আলী হোসেন এবং তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে, আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল হামলাকারী বাধন ডেমরা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাগরের লোক হিসেবে পরিচিত। আলী হোসেনের দাবি, ঘটনার সময় সাগর নিজেও আশেপাশে উপস্থিত ছিলেন এবং তার ইন্ধনেই এই সশস্ত্র হামলা হয়েছে।
আলী হোসেন অভিযোগ করেন, সাগর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। তার অনুসারীরা মাদক সেবন করে এবং এলাকায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। তার ক্ষমতার দাপটে এলাকায় কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
গুরুতর আহত হওয়ার পরও থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি আলী হোসেন। এর কারণ জানতে চাইলে এক বুক হতাশা নিয়ে এই দরিদ্র সবজি বিক্রেতা বলেন, সাগরের ভয়ে থানায় মামলা নেয় না। এর আগেও অনেকে মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। আমি মামলা করলে ওরা আমাকে এলাকায় টিকতে দেবে না, বাড়িতে থাকতে পারব না। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আবার মারধর করবে। আমার নিরাপত্তা কোথায়?
পুলিশের কাছে না গিয়ে বিচারের আশায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে ছুটছেন আলী হোসেন। তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় নেতা জাকির এবং মিলন খন্দকারসহ কয়েকজনের কাছে বিচার দিয়েছেন। তার ক্ষতচিহ্ন দেখে মিলন খন্দকার তাকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত দুই দিন ধরে ওই নেতার আশ্রয়েই রয়েছেন।
একজন হতদরিদ্র সবজি বিক্রেতা ও তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোর ছেলের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে না পারলেও, ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের আকুতি জানাচ্ছে।




