থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে হামলার অভিযোগ, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ
তালতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুনার তালতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এনায়েত হাওলাদার (৭০) গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। আহত অপর দুজন হলেন নুরুল আমিন (৫৭) ও তাঁর ছেলে মো. শফিউল্লাহ সুমন (৩৮)। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের শানুর বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এনায়েত হাওলাদার, নুরুল আমিন ও শফিউল্লাহ সুমন গাড়িতে করে শানুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাচ্চুর নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় এনায়েত হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার শিকার নুরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, মৃত লাল মিয়া হাওলাদারের ছেলে মোস্তফা হাওলাদারের কাছ থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁরা দুই একর জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে গত বছর থেকে বাচ্চু ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বাচ্চু পক্ষের লোকজন ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তাঁরা থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শানুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আলমগীর হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে (৪৩), মঞ্জু (৪৫), আউয়াল (৬০), ইউসুফ (৪৫), বেল্লাল (২৫)সহ ১০-১২ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের হাতে রড, এসএস পাইপ ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল আমিনের অভিযোগ, হামলায় এনায়েত হাওলাদারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত এনায়েত হাওলাদার তালতলী উপজেলার পূর্ব ঝাড়াখালী গ্রামের মৃত তালেব আলী হাওলাদারের ছেলে। নুরুল আমিন একই এলাকার মৃত মাওলানা শামসুল হকের ছেলে এবং পেশায় একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। আহত শফিউল্লাহ সুমন তাঁর ছেলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাচ্চু-হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০.১০.২০২৬
মোঃরিয়াজ তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার৷
০১৭১৭৯৮০৫৭৬


