, ,

সাংবাদিক মাসুদ লস্কর হানি ট্র্যাপের শিকার: সুশীল সমাজে উত্তেজনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের সিলেট বিভাগীয় প্রধান ও ই-প্রেস নিউজের নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক মাসুদ লস্কর হানি ট্র্যাপের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সৎ ও নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করে আসা একজন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার ঘটনায় সুশীল সমাজে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মাসুদ লস্কর হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামের মরহুম মুকিম উদ্দিন লস্করের ছেলে। জানা যায়, একটি সুপরিকল্পিত প্রতারক চক্রের হানি ট্র্যাপের শিকার হয়ে তিনি বর্তমানে মারাত্মক মানসিক, পারিবারিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক মাসুদ লস্কর অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর, পেশাগত কারণে সিলেটে অবস্থানকালে শাবানা চৌধুরী নামের এক নারীর অনুরোধে তার মায়ের চোখের অপারেশনের পর হাসপাতালে দেখতে যান। সেদিন রাত হয়ে যাওয়ায় এবং নিরাপদে ফেরার উপায় না থাকায়, শাবানার বড় ভাই কামরুজ্জামান চৌধুরীর অনুরোধে তার বাসায় রাত যাপন করেন। এরপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাবানা চৌধুরী, তার ভাই কামরুজ্জামান (অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা ঔষধ বিক্রেতা) এবং তাদের সহযোগী (ভাই পোর) তাকে খাবারের সঙ্গে অচেতন করার ওষুধ খাইয়ে অশালীন ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে।

এরপর সেইসব ভিডিও ব্যবহার করে মাসুদ লস্করকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে চক্রটি এবং বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে।

তিনি অর্থ লেনদেনের বেশ কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

৩০/০৯/২০২৪: তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর থেকে ০১৩০৭১১২৮৬৯ নম্বরে ২০,৩৭০/- টাকা প্রেরণ।

বিভিন্ন সময়ে শাবানার ব্যক্তিগত বিকাশ ০১৩১৪৬৫১৯৮৮ এবং তার ছেলের নম্বর ০১৬৮২৪২৮৭৫৬ এ অর্থ প্রদান।

৩১/১০/২০২৪: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সোনাই উদ্যোক্তা একাউন্ট (নং: ১৯৩২১১৬০০০০০০২৭) -এ ১,০০,০০০/- টাকা প্রেরণ।

পারিবারিক জীবনেও চক্রটির হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন মাসুদ লস্কর। তিনি জানান, শাবানা চৌধুরী তার স্ত্রী ও সন্তানদের সাথেও সম্পর্ক স্থাপন করে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন। এমনকি মিথ্যা প্রচার করে যে, মাসুদ তাকে বিয়ে করেছেন — যা তিনি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামের মরহুম মুতিউর রহমানের মেয়ে শাবানা চৌধুরীর স্বামী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই সন্তান রয়েছে। তিনি একটি সুসংগঠিত হানি ট্র্যাপ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক সদস্য ও এনজিও কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে।

বর্তমানে সাংবাদিক মাসুদ লস্করের বিরুদ্ধে ভিডিও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত আইনসহ একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা নং ৭০৮/২৫ – সিআইডির তদন্তাধীন

মামলা নং ৮৪৪/২৫ – পিবিআই এর তদন্তাধীন

তাকে এলাকা ছাড়া করার জন্য ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শাবানার ছেলে নিলয় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিছুদিন আগে স্থানীয় জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে মাসুদ লস্করের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়, যেখান থেকে তিনি দৌড়ে প্রাণে বাঁচেন। পরবর্তীতে শাবানা নিজেই ফেসবুকে এ সংক্রান্ত পোস্ট দেন।

অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, শাবানা চৌধুরী বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জাল নাগরিক সনদ দিয়ে হরিণখোলা মহিলা সমবায় সমিতি (রেজি: ১৭০) নামে একটি সমিতির নিবন্ধন নেন এবং বিআরডিবি অফিস থেকে লোন নিয়ে পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সেনাবাহিনী সম্পর্কিত আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার কারণে দল থেকেও বহিষ্কৃত হন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, শাবানা চৌধুরী একজন বিতর্কিত ও হুমকিস্বরূপ ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালান।

এ অবস্থায়, একজন আইন মেনে চলা পেশাজীবী নাগরিক হিসেবে সাংবাদিক মাসুদ লস্কর ন্যায়বিচার চেয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন