, ,

মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে হামলার অভিযোগ, অস্ত্রের আঘাত ঠেকিয়ে প্রাণে রক্ষা

মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গাইবান্ধায় এক সাংবাদিককে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হামলা ও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে প্রাণনাশের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকা গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কঞ্চিপাড়া গ্রামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় ফুলছড়ি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিক রিপন সংবাদ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিক রিপনের অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন মো. মেহেদী হাসান আশরাফ, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘পাপুল’ নামে পরিচিত, তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সাংবাদিক রিপনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ।

রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে তাকে ঘুম থেকে ডেকে বলা হয়, “চাচা, একটু জরুরি কথা আছে, একটু বের হন।” সরল বিশ্বাসে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রথমে তাকে চড় মারা হয় এবং পরে অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে দাবি করেন।

শুধু হামলাই নয়, পরবর্তীতে তাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক রিপন। তার দাবি, তাকে বলা হয়েছে-তার প্রকাশিত সংবাদের কারণে সংসারে সমস্যা হয়েছে এবং প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে; ওই টাকা তাকে দিতে হবে। একই সঙ্গে মামলা করলেও এলাকায় থাকতে পারবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক রিপন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তিনি জানান। তার অভিযোগ, বাড়িতে এসেও তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করাই কি সাংবাদিকের অপরাধ?

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার যখন সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি, তখন মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার কারণে কোনো সাংবাদিক যদি হামলা, অস্ত্রের ভয় কিংবা এলাকা ছাড়ার হুমকির শিকার হন, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়-এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

সাংবাদিক রিপন বলেন, আমি কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চাই না। একজন সাংবাদিক হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করাই এখন আমার প্রত্যাশা।

এ ঘটনায় সাংবাদিক রিপন গাইবান্ধা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হলে তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।