, ,

শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনসহ ৬ দফা দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের মানববন্ধন

নিউজটি শেয়ার করুন

​শ্রম আইন মোতাবেক ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং শ্রমিকদের জীবনের মানোন্নয়নে ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (BGWUC)।
​আজ ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
​সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তব্য রাখেন পরিষদের মহাসচিব মাহাতাব উদ্দিন সহিদ। এছাড়া কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য যথাক্রমে এম সেলওয়ার হোসেন, আকাসউদ্দীন, এইচ এম বিল্লাল হোসেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তাহমিনা রহমান, শামসুল হক, ইব্রাহিম খলিল, মোঃ সেলোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।
​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে জীবন-যাপন করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকারের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতের কারিগরদের জীবন আজ দিশেহারা। বাড়ি ভাড়া, শাক-সবজি, মাছ-মাংস ও ডিমের অনিয়ন্ত্রিত দামের কারণে শ্রমিকরা তাদের ও পরিবারের ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
​নেতৃবৃন্দ মনে করিয়ে দেন, সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করার বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের শেষার্ধে নতুন মজুরি ঘোষণা করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়নি। কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনসহ ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
​উপস্থাপিত ৬ দফা দাবি:
​১. বহুমাত্রিক শ্রমিক কার্ড ইস্যু করা এবং ১০০০ টাকার প্যাকেজে শ্রমিক পরিবারকে মাসিক চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি ও শিশু খাদ্য চালুর ব্যবস্থা করা।
২. বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা প্রণয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (PPP) শ্রমিকদের জন্য কলোনি/ডরমিটরি নির্মাণ করা।
৩. শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সুবিধার্থে সান্ধ্যকালীন চিকিৎসা সেবা চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় হাসপাতাল স্থাপনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
৪. শ্রম আইন বহির্ভূতভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকা (Blacklist) তৈরি করে প্রকাশ্য গেটে প্রদর্শন করা বন্ধ করা।
৫. কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ স্কিম জাতীয়ভাবে ‘ইআইএস’ পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিকের জন্য আগামী বছর চালু করা।
৬. জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের প্রতি অনুরোধ—তৈরি পোশাক মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করা।
​মানববন্ধন শেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত এই দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে শ্রমিক সমাজকে আশাহত করবেন না।