৩০০ ডলার — এই অংকটাই এখন বাংলাদেশের গার্মেন্টসের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শ্রমিকরা বলছেন, ঢাকায় বাঁচতে হলে তাদের মাসে কমপক্ষে ৩০০ ডলার, অর্থাৎ ৩৭,১২৫ টাকা লাগবে। ৩৫টি শ্রমিক ফেডারেশন একসাথে এই দাবি তুলেছে। রাস্তায় শ্রমিকরা বলছে কমপক্ষে ৩০,০০০ টাকা দিতে হবে।
আর মালিকরা দিচ্ছেন কত? ১২,৫০০ টাকা। ডলারের হিসেবে মাত্র ১০১ ডলার।
অর্থাৎ দাবি ৩০০ ডলার, প্রাপ্তি ১০১ ডলার। মাঝখানে ফারাক প্রায় ১৯৯ ডলার, টাকায় প্রায় ২৪,৬২৫ টাকা। এই ২৪ হাজার টাকাই প্রতি মাসে একজন শ্রমিকের পকেট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
তাহলে বায়ারের কাগজে কী থাকে?
বিদেশি বায়ার অর্ডার দেওয়ার আগে ফ্যাক্টরির কাছে ৩টা কাগজ চায় — কতজন শ্রমিক কাজ করে, তারা ঠিকমতো বেতন-ওভারটাইম পায় কিনা, আর BSCI / Sedex অডিটে পাস কিনা।
কাগজে সব ঠিক দেখানো হয়। অডিটে পাস হয়। অর্ডার আসে।
কিন্তু ভেতরের চিত্র উল্টো। ২০২৪ সালের অডিটে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৩৭% ফ্যাক্টরিতে মজুরি আর কর্মঘণ্টায় গুরুতর অনিয়ম ছিল। ডাবল বেতন শিট, অডিটের আগে শ্রমিককে শিখিয়ে দেওয়া — এগুলো এখন নিয়ম হয়ে গেছে।
শ্রমিকের মুখে
একজন নারী অপারেটর বলছেন, “ওভারটাইম করেও ১৮-২০ হাজারের বেশি পাই না। বাসা ভাড়াতেই অর্ধেক চলে যায়। ৩০০ ডলার তো দূরের কথা, ১৫০ ডলারও হাতে পাই না।”
এই ক্ষোভ থেকেই অক্টোবর-নভেম্বর মাসে গাজীপুর-আশুলিয়ায় টানা আন্দোলন হয়েছে, প্রায় ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। চাপের মুখে সরকার ১ নভেম্বর ২০২৬ নতুন মজুরি বোর্ড করেছে।
প্রশ্নটা এখন বায়ার আর মালিকের কাছে
৩০০ ডলারের দাবিটা কি অযৌক্তিক? একটা টি-শার্টের দাম ৪.২০ ডলার হলে, সেই শার্টে শ্রমিকের ভাগ মাত্র ৭০ সেন্ট। এই ৭০ সেন্টকে ১ ডলার ৩৫ সেন্ট করলেই শ্রমিক ৩০০ ডলারের কাছাকাছি বেতন পায়।
তাহলে ৩০০ ডলার দেওয়া কি অসম্ভব? নাকি মালিক আর বায়ার মিলে ইচ্ছা করে ১০১ ডলারে আটকে রেখেছে?
এই প্রশ্নের উত্তরই এখন চায় শ্রমিকরা।






