, ,

রেলওয়ের ক্ষমতার দাপট: কর্মকর্তার মনগড়া অভিযোগে কর্মহীন গেট কিপার, এলাকা ও এলাকাবাসীকে ‘উশৃঙ্খল’ আখ্যায়িত করে চরম ধৃষ্টতা!

নিউজটি শেয়ার করুন

​বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এখন চলছে স্বেচ্ছাচারিতার মহোৎসব। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং নিজেদের পছন্দের লোক বসাতে একজন অসহায় অস্থায়ী গেট কিপারকে মিথ্যা অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের সংখ্যাটাও কম নয়, তথ্য-প্রমান সহ সামনে আসা এখন শুধু সময়ের দাবি।শুধু তাই নয়, নিজের অন্যায় আড়াল করতে একজন সরকারি কর্মকর্তা পুরো এলাকার সম্মানিত নাগরিকদের ‘উশৃঙ্খল’ ও ‘নেশাখোর’ বলে অভিহিত করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, যা প্রচলিত আইন ও সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী গেট কিপার মো. মনির উদ্দিন (ই/৫০ কোটবাড়ি গেট) রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর, ডিইএন-১ আবু রাফি ও সিনিয়র প্রকৌশলী মো. আকরামের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। মনিরের দাবি, প্রভাবশালী এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গেট কিপারদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া, অসাধু উপায়ে অতিরিক্ত লোক দেখিয়ে টাকা উত্তোলন এবং নিজের বাসাবাড়ির কাজের ছেলেকে গেট কিপার হিসেবে দেখিয়ে বেতন উত্তোলনের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। মনির উদ্দিন একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হওয়া সত্ত্বেও, এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে।

​এলাকাবাসীকে নিয়ে চরম ধৃষ্টতা:

সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আপত্তিকর বিষয় হলো, লাকসামের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) জনাব লিয়াকত আলী মজুমদার মনির উদ্দিনকে অভিযুক্ত করতে গিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গেটে এলাকার ‘উশৃঙ্খল লোকজন’ নিয়ে আড্ডা দেন ও নেশা করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই পুরো এলাকার জনগণকে ‘উশৃঙ্খল’ আখ্যায়িত করার সাহস পেলেন কীভাবে—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি যৌথ স্বাক্ষরিত পত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এলাকায় এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড নেই এবং মনির উদ্দিন এলাকায় একজন ভদ্র হিসেবেই পরিচিত। এলাকার মানুষের চরিত্র নিয়ে ঢালাওভাবে এমন মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা আইনগত সীমা অতিক্রম করেছেন।

​তদন্তের নামে নাটক কি?

মনির উদ্দিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যুগ্ম সচিব মো. তবিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, স্থানীয়দের শঙ্কা—প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? আইনজীবীরা মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মচারী কোনো এলাকায় গিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করতে পারেন না। এটি দণ্ডবিধির মানহানি এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

​সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা ও আইনি সতর্কতা:

অভিযোগের তীর যাদের দিকে—চিফ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর হোসেন (চট্টগ্রাম), ডিইএন-১ মো. আবু রাফি (চট্টগ্রাম), এবং সিনিয়র প্রকৌশলী মো. আকরাম (কুমিল্লা)—তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মনির। ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, নিজের দুর্নীতি ঢাকতে কি পুরো একটি এলাকার মানুষকে ছোট করা নিয়ম?

​তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) জনাব আফজাল হোসেন কি পারবেন এই প্রভাবশালী চক্রের মুখোশ উন্মোচন করতে? নাকি ক্ষমতার দাপটে আরও একটি ফাইল চাপা পড়ে যাবে?

​সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সচেতন মহল মনে করছে, পুরো বিষয়টি এখন সচিবালয়সহ উচ্চ মহলের নজরদারিতে থাকা জরুরি। একই সাথে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এবং ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’-এর মানহানির ধারায় কঠোর আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর সম্মানহানি এবং একজন কর্মীর জীবন ধ্বংসের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের দায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী বৃহত্তর গণআন্দোলনসহ আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন। ক্ষমতার দাপট চিরস্থায়ী নয়, আইনের শাসনই এখানে শেষ কথা বলবে।