পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে ১১ বছর পূর্বে। দীর্ঘ ৮ বছর পর নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে।
এরআগে আট বছর বিনাভোটে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন।
সেটি ছিল এক শ্রেণীর চতুর্থতায় আইন জটিলতা সৃষ্টি করে সুবিধা গ্রহণের।
ফের নতুন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাথে পূর্বাচলসহ আশপাশের কয়েকটি মৌজা সংযুক্ত করায় দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। গত ১৬ই জুলাই এক যুগে ১২ জন পুরুষ ও নারী ইউপি সদস্যসহ একজনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ধারণা করেছেন নতুন করে নির্বাচন বানচাল ফের সক্রিয় একটি মহল।
যদিও এমন কোন আবেদন পাননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন,পূর্বাচল বা সীমানা জটিলতার কারণে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আটকে যাওয়ার কোন দপ্তরিক সিদ্ধান্ত বা আবেদন তাদের কাছে নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ও দাউদপুর ইউনিয়ন এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের কয়েকটি মৌজাজুড়ে বিস্তৃত। অতীতে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে মামলা হওয়ায় দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রায় আট বছর বিনা ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসক নিয়োগের পর সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে নির্বাচন আবারও বিলম্বিত হতে পারে।
সম্ভাব্য মহিলা ইউপি সদস্য প্রার্থী জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাসী। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে সীমানা নির্ধারণের গুঞ্জন ওঠায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কোনো অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করা হলে স্থানীয় মানুষ তা মেনে নেবে না।’
এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিবাদও দেখা গেছে। এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করে। সীমানা জটিলতার অজুহাতে কেউ নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া উচিত।’
সম্ভাব্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোতে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি মাঠে থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নির্বাচন হলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন। এবার তারা আর নির্বাচন বিলম্বিত করতে চান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বাচল বা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানা জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বন্ধ হওয়ার কোনো দাপ্তরিক বা বাস্তব আশঙ্কা নেই। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা আবেদনও আসেনি। নির্বাচন ছাড়া প্রশাসক দীর্ঘ সময় থাকার কোনো কারণ নেই। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।’
এর আগে গোলাকান্দাইলে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে যথাসময়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দেন।
এদিকে ওই আশ্বাসের পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদেরও প্রত্যাশা, কোনো ধরনের সীমানা বা প্রশাসনিক জটিলতায় নির্বাচন আর আটকে থাকবে না। ১২০ দিনের প্রশাসক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।







