, ,

রাজনীতিতে বড় ধসের শঙ্কা

নিউজটি শেয়ার করুন

 

স্বদেশ ডেস্ক : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই দিনে এমন কিছু রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রকাশ্যে আসবে, যার ফলে বহু বড় বড় রাজনৈতিক সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনতার অধিকার পার্টি (পিআরপি)-এর চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সংসদীয় আসনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, জুনিয়র নেতাদের দায়িত্বহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন প্রবীণ নেতারা। এই প্রবণতা রাজনীতির ভেতরে চলমান দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়রদের বক্তব্য দলের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, যার কাউন্টার দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।

এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে-রাজনীতি এখন আর মুখের কথা বা আবেগের জায়গা নয়; বরং এটি দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার প্রশ্ন। নেতৃত্বে ভুল সিদ্ধান্ত ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলাফল খুব শিগগিরই

দৃশ্যমান হতে পারে। পিআরপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দিনগুলোতে রাজনীতিতে প্রকৃত নেতৃত্ব ও ভণ্ডামির মুখোশের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যারা জনগণকে ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি তারিখ নয়, এটি হতে পারে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি টার্নিং পয়েন্ট।

তিনি বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উন্নতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে-একে অপরকে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে। প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চাইলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে। সব দোষ প্রশাসনের ওপর চাপানো আমাদের এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, অথচ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছি আমরাই।

তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাইরে চলে যাওয়ায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই অবস্থায় নির্বাচন সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং রক্তপাতের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধের নতুন ফাঁদ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক রদবদল দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা দায়িত্বশীলভাবে বাড়িয়ে সেখানে নতুন প্রজন্মের দক্ষ ও সৎ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে দুঃখজনকভাবে কমিশনের আচরণে মাঝে মাঝেই পক্ষপাতিত্বের চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় তিনি কিছু পদপ্রার্থীর দায়িত্বজ্ঞানহীন হুংকার ও বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এসব আচরণে জনগণ বিরক্ত ও বিব্রত হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। ফেনী-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমি ফেনী২ সংসদীয় আসনের একজন প্রার্থী হিসেবে তরুণ প্রজন্মের ভোট প্রত্যাশা করি। কিন্তু তরুণরা আমাকে কেন ভোট দেবে-এই প্রশ্নের উত্তরে আমি কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, আমাদের এখন দরকার ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। নতুন প্রজন্মকে সঠিক নেতৃত্বের আলো দেখাতে না পারলে দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির দিকে ধাবিত হবে। শিল্পকারখানা, গার্মেন্টসসহ উৎপাদন খাত ইতিমধ্যে সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তা গড়ে তুলতে হবে। পুরোনো, ভাঙাচোরা ব্যবস্থায় আর চলবে না-আমাদের দরকার আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর নেতৃত্ব। যেমন খেলোয়াড় বাছাইয়ে আমরা বিশ্বজুড়ে খুঁজে নিই সেরা প্রতিভা, তেমনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা মেধাবী ছাত্র-যুবকদের শিক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্বশীল অবস্থানে আনতে হবে। আমি ফেনী২ আসনে জনগণকে সঠিক প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে সংকোচবোধ করি, কারণ বিশ্বাসহীনতার পরিবেশে আমিও স্পষ্ট বার্তা দিতে পারছি না। এর ক্ষতি শুধু ব্যক্তি বা দল নয়-সমাজ ও রাষ্ট্র দুটোই ভোগ করছে।

রাষ্ট্র যদি আমার কর্ম ও যোগ্যতা বিবেচনায় আমাকে সামনের সারিতে কাজ করার সুযোগ দেয়, তবে আমি জনগণের প্রত্যাশিত ভূমিকা সততা ও দায়িত্বের সঙ্গে পালন করব। ফেনী-২ আসনে আমি এমন একটি মডেল শহর গড়ে তুলতে চাই, যা কল্পনারও বাইরে-ফেনী শহর হবে সারা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও উন্নত শহর।