, ,

ময়মনসিংহ মর্গে মৃত নারীকে ধর্ষণ: অবিশ্বাস্য নৃশংসতা, অভিযুক্ত আটক

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্টমর্টেম ঘরে এক অকল্পনীয় ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর পরেও রেহাই পাননি এক নারী হাসপাতালের মর্গে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ঘোষবেড় গ্রামের নূরজাহান আক্তার হাসি (২৫) গত রবিবার রাতে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পরে হালুয়াঘাট থানা পুলিশের সদস্য ডুম আবু সাঈদ মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন পোস্টমর্টেমের জন্য।
অভিযোগ উঠেছে, ওই রাতেই  মর্গে মৃত নূরজাহানকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ।
পরদিন সকালে পোস্টমর্টেমের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মৃতদেহের প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পান। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করলে অভিযুক্ত আবু সাঈদকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, “এমন ঘটনা মানবতার সীমাকেও লঙ্ঘন করেছে। মৃত নারীর মর্যাদা পর্যন্ত রক্ষা করা যাচ্ছে না।এটি রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্য গভীর লজ্জার।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মর্গ ও হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার জরুরি। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ ও নারী মরদেহ পরিচালনায় আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সম্পন্ন হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজে মানবিক অবক্ষয়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি। মর্গে মৃত নারীর মর্যাদা লঙ্ঘন একদিকে যেমন আইনের শাসনের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ করে, তেমনি নৈতিকতার পতনও স্পষ্ট করে তোলে।