, ,

বিদেশে পাঠানোর টোপে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি, সাঘাটায় বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা।

‎বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সাঘাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

‎লিখিত বক্তব্যে মাসুদ রানা জানান, তিনি উপজেলার উত্তর সাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. বিপ্লব (৩০) বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রলোভন দেখান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনি নগদ ৭ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।

‎তার দাবি, টাকা গ্রহণের সময় অভিযুক্তরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর লিখিত অঙ্গীকার করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। বরং একের পর এক অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর পাওনা টাকার আংশিক হিসেবে অভিযুক্ত বিপ্লব অগ্রণী ব্যাংক, সাঘাটা শাখার ৪ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর টাকা ফেরতের দাবি জানালে অভিযুক্তরা অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।

‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে তারা সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎মাসুদ রানা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে তাদের পরামর্শে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাকালে মো. আনন্দ, মোছা. সপ্না বেগম, মোছা. ফেন্সি বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে ও তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।