গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি ফুলছড়িকে একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা উল্লেখ করে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, গাইবান্ধা তার কাছে নতুন কর্মস্থল নয়। এর আগে তিনি গোবিন্দগঞ্জে এসিল্যান্ড এবং ফুলছড়িতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই এ জেলার মানুষের সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান দায়িত্বকে তিনি সেবামূলক কাজের একটি মহৎ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, ফুলছড়ির মানুষ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় গাইবান্ধার উন্নয়ন ও সুশাসনের ধারা আরও গতিশীল হবে। ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা-সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ফুলছড়িকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন সবসময় মাঠে থাকবে। সামাজিক সমস্যা সমাধান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষাখাতকে শক্তিশালী করা, যুবসমাজকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের গঠনমূলক ভূমিকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জগৎবন্ধু মন্ডলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজী মুয়ীদুর রহমান, ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিন্টুমিয়া, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম, ফুলছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আসাদুল ইসলাম, ফুলছড়ি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মণ ও ফুলছড়ি সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
এ ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইউপি চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে ইউএনও জগৎবন্ধু মন্ডলসহ কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।







